মাস কয়েক পরেই নবম পেরিয়ে দশম শ্রেণীতে উঠেবে অর্পিতা, আঁচল ও কঙ্কন (ছদ্দনাম)। আচঁল ও কঙ্কন নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসলেও বেশ কিছুদিন থেকে দেখা নেই অর্পিতার। পরে জানাগেলো তার মা-বাবা আর পড়াবেন না। বিষয়টা যতটা না আর্থিক, তার চেয়ে অনেক বেশি সামাজিক।
ওই কিশোরীর অভিভাবকদের যুক্তি, মেয়েকে বেশি পড়ালে বিয়ের জন্য পাত্র পাওয়া যাবে না! তাই সেলস রিপ্রেজেনটেটিভের চাকরি করা ছেলের সাথে বিয়ে দিয়েছেন। কমিউনিটি পর্যায়ে বাল্যবিবাহ নিরসনে সম্মিলিত উদ্যোগে “জয়েন্ট অ্যাকশন গ্র্যান্ট” প্রকল্পের আওতায় রংপুরে ৪র্থ কর্মশালায় গল্প শোনাচ্ছিলো এক কিশোরী।
কর্মশালায় কিশোরীর সাথে বাকিরাও কন্ঠ মিলিয়ে বাল্য বিবাহকে না বলে তালে তালে স্লোগান তোলেন ‘বাল্য বিয়ে করবো না, কোথাও হতে দেবো না’।
মালালা ফান্ডের অর্থায়ন ও পিপলস ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেশন (পপি) এবং বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের ৩৬ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার রংপুরের মাহিগঞ্জের আজিজুল্যাহ এলাকার প্রভাতী মুক্ত স্কাউট ইনস্টিটিউট হলরুমে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে স্কাউট ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুস সোবহান মিয়া, প্রভাতী মুক্ত স্কাউট ইনস্টিটিউটের প্রধান শিক্ষক শাহিদা বেগম, পরিবেশ সংবাদিক সৌমিক আহমেদ, মেকুড়া দ্বিমুখী ফাজিলা মাদ্রাসার প্রভাষক বেলাল হোসেন, হোসেন নগর নারী মুক্তি সংগঠণের সাজেদা বেগম সুইটি বিশেষ অতিথি ছিলেন।
বক্তারা বাল্যবিয়ের কুফল তুলে ধরে জানান, বাল্যবিবাহ সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষা ব্যবস্থা, সামাজিক, অর্থনৈতিক, ও স্বাস্থ্যগত ক্ষতিকর জন্য অন্যতম বড় বাঁধা। আইন থাকলেও এর সঠিক বাস্তবায়নের অভাব, দারিদ্র্য এবং সামাজিক কুসংস্কার বাল্যবিবাহের হার বাড়িয়ে তুলছে। মেয়েদের শিক্ষা, সচেতনতা ও আর্থিক স্বাধীনতার উপর গুরুত্ব দিয়ে বাল্যবিবাহ নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বানও জানান বক্তারা।
আয়োজন পরিচালনা করেন জয়েন্ট একশন গ্র্যান্ট প্রজেক্টের কনসোর্টিয়াম কোঅর্ডিনেটর, পিপলস ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেশনের (পপি) রকিবুল ইসলাম, ইমপ্লিমেন্টেশন অফিসার বিল্লাল হোসেন, বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) প্রোগ্রাম ফোকাল তানভীরুল ইসলাম ও প্রোগ্রাম কোর্ডিনেটর মাহমুদ মীম। সহযোগিতায় ছিলেন সাংবাদিক আরিফুল হক রুজু এবং প্রথম আলোর বন্ধুসভার সদস্য সোহাগ কুমার।
কর্মশালায় বাল্যবিবাহ রোধে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির গুরুত্ব এবং আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন, বাল্যবিবাহ বন্ধে সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন।
কর্মশালার শুরুতে অংশগ্রহণকারীদের বাল্যবিবাহের কুফল এবং বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়। পরে, দলগত কার্যক্রমে অংশ নিয়ে বাল্যবিবাহের কারণ ও প্রতিকার নির্ণয়ে কাজ করেন অংশগ্রহণকারীরা। তাদের গবেষণার ফলাফল পোস্টার প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।








