এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অ্যানথ্রাক্স রোগের উপসর্গ নিয়ে রোজিনা বেগম (৪৫) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার (৪ অক্টোবর) রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি।
রোজিনা বেগম গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের পশ্চিম বেলকা গ্রামের আবুল হোসেনের স্ত্রী।
জানা যায়, ওই নারীর তিনটি ছাগল ছিল। এর মধ্যে একটি ছোট ছাগল অসুস্থ হয়ে পড়ে। অসুস্থ ছাগলটির অবস্থা বেগতিক দেখে ৩০ সেপ্টেম্বর সেটি জবাই করেন। এ সময় তার হাতের আঙুলে ক্ষত হয়। পরে স্থানীয় পল্লিচিকিৎসকের পরামর্শ নেন। এতে কাজ না হলে তাকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান পরিবারের লোকজন।
রোববার (৫ অক্টোবর) রাতে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দিবাকর বসাক জানান, শনিবার খুব খারাপ অবস্থায় রোজিনা বেগমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। তার শরীরে অ্যানথ্রাক্স রোগের উপসর্গ ছিল। অন্যান্য শারীরিক জটিলতাও ছিল। যেমন হৃদ্রোগ ও ফুসফুসে সমস্যা ছিল। এ ছাড়া রোগীর রক্তচাপ কমে গিয়েছিল এবং শ্বাসকষ্ট ছিল। পরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। রোববার পারিবারিক কবরস্থানে ওই নারীর দাফন সম্পন্ন হয়।
এছাড়াও অসুস্থ গরু জবাইয়ের পর থেকে ওই এলাকার কমপক্ষে ১১ জন অ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।
১১ জন অ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্ত হওয়ার ব্যাপারে জানা যায়, ২৭ সেপ্টেম্বর সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকার কিশামত সদর গ্রামে মাহাবুর রহমানের একটি গরু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। গরুটি জবাই করে অনেকেই কম দামে মাংস ভাগাভাগি করে নেন। গরু জবাইয়ের কাজে অংশ নেওয়া ১১ জনের শরীরে কয়েক দিন পর ফোসকা, ঘা এবং পচনের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। ধীরে ধীরে আক্রান্তদের হাত, মুখ, চোখ ও নাকে ক্ষত চিহ্ন স্পষ্ট হতে থাকে। আক্রান্ত ব্যক্তিরা চিকিৎসকের কাছে গেলে তাদের অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।
অ্যানথ্রাক্সের লক্ষণ নিয়ে ১১জন চিকিৎসা নিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. মো: রফিকুজ্জামান। অ্যানথ্রাক্সে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে জানান তিনি।







