চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • স্বাস্থ্য
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • লাইভ টিভি
No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

সাক্ষীর জবানবন্দি: হাসপাতালে শেখ হাসিনা বলেছিলেন ‘নো রিলিজ, নো ট্রিটমেন্ট’

চ্যানেল আই অনলাইনচ্যানেল আই অনলাইন
২:৩১ অপরাহ্ন ০৪, আগস্ট ২০২৫
আদালত
A A

গুলিবিদ্ধ হয়ে পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্র‍্যাইব্যুনালে দেয়া তার সাক্ষ্যে বলেছেন, পঙ্গু হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় শেখ হাসিনা বলেছিলেন ‘নো রিলিজ, নো ট্রিটমেন্ট।’

২০২৪ সালের ১৯ জুলাই কোটা বিরোধী আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গুলিবিদ্ধ ঢাকা কলেজের মাস্টারের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল ইমরান সোমবার বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ এই সাক্ষ্য দেন।

গুলিবিদ্ধ হয়ে অচল হয়ে যাওয়া বাম পা নিয়ে সাক্ষীর ডায়াসে বসে ইমরান তার সাক্ষ্যে বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাইয়ের শুরু থেকে কোটাবিরোধী যৌক্তিক আন্দোলনে আমি সম্পৃক্ত ছিলাম। ১৯ জুলাই বিজয়নগর পানির টাংকি এলাকায় আন্দোলনরত অবস্থায় পুলিশ আমাদের উপর অতর্কিত গুলি করে। আমি গুলিবিদ্ধ হই ও সেখানে আমার দুই সহযোদ্ধা নিহত হন। আমার বাম পায়ের হাঁটুর নিচে গুলি লাগে। এরপর আমাকে বিভিন্ন হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে কোন প্রাইভেট হাসপাতাল আমাকে ভর্তি করতে অপারগতা প্রকাশ করে।

পরে মিটফোর্ড হাসপাতালে আমাকে নিয়ে যাওয়া হয়। এখানে চিকিৎসকরা আমার বা পা কেটে ফেলার কথা বলেন। আমি পা কেটে ফেলার পক্ষে ছিলাম তবে আমার শুভাকাঙ্ক্ষীরা পা কাটার অনুমতি দেয়নি। পরে মিটফোর্ড হাসপাতাল থেকে আমাকে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলা হয়। এরপর আমাকে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গত বছরের ২৬ বা ২৭ জুলাই পঙ্গু হাসপাতালে আমাদের দেখতে আসেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার আশা উপলক্ষে আগের রাত থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা চলতে থাকে হাসপাতালে।

এজন্য আমাদের রাতে ঘুমের সুযোগও দেয়া হয়নি। শেখ হাসিনা এসে আমাদের খোঁজখবর নিচ্ছিলেন। তখন আমার সাথে তার কথা হয়। তখন আমি তাকে ম্যাডাম বলে সম্বোধন করলে আপা বলে ডাকতে বলেন। আমি কোথায় পড়াশোনা করি, হলে থাকি কিনা সে সম্পর্কে তিনি জানতে চান।

একপর্যায়ে সে বুঝতে পারে আমরা আন্দোলনকারী। সে আমাকে আরো জিজ্ঞাসা করে যে, তুমি কি দেখেছো পুলিশ তোমাকে গুলি করেছে? আমি বলি যে পুলিশ আমাকে গুলি করেছে। তবে পুলিশের পোশাকে কে ছিল তা আমি জানি না। আমার পরেও উনি চার পাঁচ জনের সাথে হাসপাতালে কথা বলেন।

Reneta

পরে উনি যখন চলে যাচ্ছিলেন তখন হেল্প ডেস্কের কাছে গিয়ে ‘নো রিলিজ, নো ট্রিটমেন্ট’ অর্ডার দিয়ে যান। যা আমি শুনতে পাই। তখন বুঝিনি তিনি এটা বলে কী বুঝিয়েছেন। পরবর্তীতে আমার ঠিকঠাক ট্রিটমেন্ট দেয়া হচ্ছিল না। আমার পা পচে যাচ্ছিল। গন্ধ আশেপাশে কেউ থাকতে পারতো না। হাসপাতালে সাপ্লাই করা এন্টিবায়েটিক আমার শরীরে কাজ করছিল না। কিন্তু বাইরে থেকে কিনে আনারও অনুমতি ছিল না।

তখন আমার বাবা আমাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজের চেষ্টা করে কিন্তু আমাকে রিলিজ দেয়া হয়নি। পরে আমি বুঝতে পারি শেখ হাসিনার ‘নো রিলিজ, নো ট্রিটমেন্ট’ অর্ডারের ফলে আমাকে রিলিজ দেয়া হচ্ছে না। তারা চাচ্ছিল আমার পা টা কেটে ফেলে পরবর্তীতে জেলে পাঠাতে। তবে গত ৫ই আগস্ট এর পর হাসপাতালের সাধারণ বেড থেকে কেবিনে নেয়া হয়। এখন যথাযথ চিকিৎসা চলছে। এখন পর্যন্ত আমার পায়ে ২৫ টি অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। তবে আমার বাম পা মুভমেন্ট হয় না, এটা কখনো সুস্থ হবে না।’

একপর্যায়ে, সাক্ষী আব্দুল্লাহ আল ইমরান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্র‍্যাইব্যুনালকে বলেন, আমার এই অবস্থার জন্য শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের সাবেক আইজি দায়ী। কারণ তারাই গুলির নির্দেশ দেয় সে কারণে পুলিশ গুলি করে। এই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর তাকে জেরা করা হয়। জেরা করেন শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মো: আমির হোসেন।

আজ ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউসন পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর ও প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম শুনানি করেন। একসময় অপর প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, শেখ হাসিনার পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন। আর এই মামলায় গ্রেফতার হয়ে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়া আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।

গতকাল এই মামলায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের পর ট্র‍্যাইব্যুনালে প্রথম সাক্ষ্য দেন খোকন চন্দ্র বর্মন। তিনি গত বছরের ১৮ জুলাই নারায়নগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় তার সামনে সংঘটিত হতাহতের ঘটনা ও গুলিতে নিজের মুখমণ্ডল বিকৃত হওয়ার বিষয়ে সাক্ষ্য দেন। পরবর্তীতে গতকাল তাকে জেরা করা শেষ হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এছাড়া এই মামলায় দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে (অ্যাপ্রোভার) রাজসাক্ষী হতে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের আবেদন মঞ্জুর করেন ট্র্যাইব্যুনাল। সেই সাথে এই মামলায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য ৩ আগস্ট ও সাক্ষ্যের জন্য ৪ আগস্ট দিন ধার্য করেন।

গত ১৬ জুন ট্র্যাইব্যুনাল-১ পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে হাজির হতে একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন এবং পরদিন দুটি পত্রিকায় শেখ হাসিনা ও কামালকে ৭ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। তবে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পরেও পলাতক দুই আসামি ট্রাইব্যুনালে হাজির না হওয়ায় তাদের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী দিয়ে এই মামলায়  অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করেন। সে অনুযায়ী শুনানি শেষে গত ১০ জুলাই এই মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন ট্র্যাইব্যুনাল-১।

গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গত ১ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফর্মাল চার্জ) আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। শেখ হাসিনার পাশাপাশি এই মামলায় অভিযুক্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের ৫টি অভিযোগ এনে অভিযোগ গঠনের আবেদন করে প্রসিকিউশন।

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে প্রথম মামলাটি (মিস কেস বা বিবিধ মামলা) হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে।

এই মামলাটি ছাড়াও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আরও দুটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে গুম-খুনের ঘটনায় তাকে আসামি করা হয়েছে। অন্য মামলাটি হয়েছে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়।

গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকার, এর দলীয় ক্যাডার ও সরকারের অনুগত প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে বলে একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ে। দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসব অপরাধের বিচার কাজ চলছে।

Jui  Banner Campaign
ট্যাগ: ৫ই আগস্টআন্তর্জাতিক অপরাধ ট্র‍্যাইব্যুনালগণঅভ্যুত্থানঢাকা কলেজসাক্ষীর জবানবন্দি
শেয়ারTweetPin

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: মীর মাসরুর জামান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • প্রচ্ছদ
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT