লে. জেনারেল (অব.) মামুন খালেদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর অতীতের নির্যাতনের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে এনেছেন সাংবাদিক ও গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সদস্য সৈয়দ আবদাল আহমেদ। তিনি লিখেছেন, ১/১১–এর সেনাসমর্থিত জরুরি সরকারের সময় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে ৭০০ সাংবাদিকের বিবৃতি সংগঠিত করাই ছিল তার ‘অপরাধ’, যার জেরে তাকে ডিজিএফআই কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে সৈয়দ আবদাল আহমেদ বিস্তারিত এই অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ১/১১–এর পর জরুরি অবস্থার সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হলে তিনি প্রতিবাদ হিসেবে সাংবাদিকদের স্বাক্ষরসংবলিত একটি বিবৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেন।
তিনি লেখেন, কঠোর নজরদারি ও জরুরি আইনের বিধিনিষেধের মধ্যেও গোপনে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ৭০০ জনের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়। বিবৃতির খসড়া তিনি তৈরি করেন এবং তা যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমানের সঙ্গে পরামর্শ করে চূড়ান্ত করা হয়। ওই বিবৃতিতে খালেদা জিয়ার নারী শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে অবদানের কথাও যুক্ত করা হয়।
সৈয়দ আবদাল আহমেদের দাবি, স্বাক্ষরসংবলিত বিবৃতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পাঠানোর পর তা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এতে ডিজিএফআই বিব্রত হয় এবং পরদিন তাকে চীফ রিপোর্টারদের সঙ্গে বৈঠকের কথা বলে ডেকে নেওয়া হয়।
তার অভিযোগ, সে সময় ব্রিগেডিয়ার পদে থাকা মামুন খালেদের অধীনে ডিজিএফআইয়ের মিডিয়া উইংয়ে কর্মরত লে. কর্নেল গোলাম মাওলা তাকে একটি বদ্ধ কক্ষে আটক রেখে অমানবিক আচরণ করেন। তীব্র গরমের মধ্যে আলো-বাতাসহীন ঘরে রাখা হয় এবং তার পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কেও অবমাননাকর মন্তব্য করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পোস্টে তিনি আরও বলেন, বিষয়টি সাংবাদিক মহলে ছড়িয়ে পড়লে প্রেসক্লাব থেকে বিক্ষোভের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে রাতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সৈয়দ আবদাল আহমেদ তার পোস্টে লেখেন, ‘এত বছর পর আজ সেই মামুন খালেদ তাদের সেই ঘৃন্য অপকর্মের জন্য ধরা পড়েছেন, খবরটি দেখে খুব ভালো লাগছে। পাপের জন্য কিছুটা হলেও প্রায়শ্চিত্ব করুন মামুন খালেদ।’








