আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) নিহত হওয়ার পর ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে হবেন, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে এখন পর্যন্ত পাঁচজন সম্ভাব্য উত্তরসূরির নাম ঘুরছে।
সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
মোজতাবা খামেনি
৫৬ বছর বয়সী মোজতাবা খামেনি, খামেনির দ্বিতীয় পুত্র। ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং আধাসামরিক বাসিজ বাহিনীর ওপর তার উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে বলে জানা যায়। তবে শিয়া শাসনব্যবস্থায় পারিবারিক উত্তরাধিকারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় না। পাশাপাশি তিনি উচ্চ পর্যায়ের ইসলামি পণ্ডিত হিসেবে স্বীকৃত নন এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় তার কোনো আনুষ্ঠানিক পদও নেই— যা তার জন্য বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আলীরেজা আরাফি
৬৭ বছর বয়সী আলীরেজা আরাফি খামেনির ঘনিষ্ঠ ও প্রতিষ্ঠিত ইসলামি পণ্ডিত হিসেবে পরিচিত। তিনি আলেমদের পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য। এই কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রার্থীদের অনুমোদন এবং সংসদে পাস হওয়া আইন যাচাই করে। আরাফি মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থারও প্রধান। তবে রাজনৈতিকভাবে তিনি ততটা প্রভাবশালী নন এবং সামরিক বা নিরাপত্তা মহলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা সীমিত।
মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি
৬০ বছর বয়সী মিরবাঘেরি কট্টরপন্থি ইসলামি আলেম হিসেবে পরিচিত। তিনি কেন্দ্রীয় আলেম পরিষদের সদস্য এবং রক্ষণশীল ধারার নেতাদের অন্যতম। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাকে তীব্র পশ্চিমবিরোধী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কোম শহরের একটি বিজ্ঞান একাডেমির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
হাসান খোমেনি
৫০ বছর বয়সী হাসান খোমেনি ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি। তিনি বর্তমানে খোমেনির সমাধিসৌধের তত্ত্বাবধায়ক। প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদে না থাকলেও তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী হিসেবে তার ভাবমূর্তি রয়েছে। তবে সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোয় তার প্রভাব সীমিত।
হাশেম হোসেইনি বুশেহরি
ষাটোর্ধ্ব হাশেম হোসেইনি বুশেহরি একজন জ্যেষ্ঠ ইসলামি পণ্ডিত। তিনি আলেম পরিষদের প্রথম উপ-চেয়ারম্যান এবং উত্তরাধিকার ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। খামেনির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, যদিও সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তার যোগাযোগ তেমন দৃঢ় নয়।
ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করবে বিশেষজ্ঞ পরিষদ। রাজনৈতিক, ধর্মীয় এবং সামরিক প্রভাব— এই তিনের ভারসাম্যই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করতে পারে কে বসবেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় আসনে।








