ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমকে ভারতের কলকাতায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর তার লাশ কোথায় ফেলা হয়েছে তা জানতে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
আনোয়ারুল আজিমকে হত্যাকাণ্ডের পর তার লাশ টুকরো টুকরো করে কাশিপুর থানার অন্তর্গত ভাঙরের কৃষ্ণ ও পোলেরহাট মাটিতে ফেলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে সেখানে তল্লাশি শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বৃহস্পতিবার রাতেই সেই এলাকায় যায় সিআইডির টিম। কিন্তু কোনও দেহাংশ উদ্ধার হয়নি বলেই জানা গিয়েছে।
ক্যাব ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে সিআইডি বলছে, ৩০ এপ্রিল গাড়িটি বুক করেছিল আমানুল্লাহ। ১৩ মে বিকেলে চারটার দিকে তিনি ফয়সালকে নিউটাউনের অ্যাক্সিস মলের কাছে নামান। পরে আবার আমানুল্লাহ ও সিয়ামকে নিয়ে ওই এলাকায় যান। ১৪ মে আমানুল্লাহ ও জিহাদ একটি ট্রলি ব্যাগ নিয়ে তার গাড়িতে চড়ে ফের ওই মলের কাছে আসে। সেখানে সিয়াম তাদের সঙ্গে দেখা করে ওই ট্রলি ব্যাগ এবং এমপি’র মোবাইল নিজের সঙ্গে নেয়। সঙ্গে আনা একটি ব্লিচিং পাউডারের প্যাকেট আমানুল্লাহকে দিয়েছিল সিয়াম।
সিআইডি জানায়, ১৫ তারিখ আমানুল্লাহ ও শিলাস্তি রহমান সকাল ১০টায় ট্রলি ব্যাগ সঙ্গে নিয়ে একটি অ্যাপ ক্যাব ধরে সোজা কলকাতা বিমানবন্দরে এসে ফ্লাইট ধরে বাংলাদেশ পালান। ফ্ল্যাটে থাকা দেহাংশ টুকরো করে অন্য ট্রলি ব্যাগে ভরে ফয়সাল ও মুস্তাফিজুর। ১৯ তারিখ ওই ব্যাগ নিয়ে তারা কলকাতা ছাড়ে। মাঝে দেহাংশ ভর্তি ব্যাগ উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগর এলাকায় এক ব্যক্তির হাতে তুলে দেয়। সেই ব্যক্তি সিয়াম বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
এদিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যাকাণ্ড নিয়ে ভারতের ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চের অফিসারসহ চার ভারতীয় পুলিশের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এবং ভারতের আর কেউ এমপি আনার হত্যাকাণ্ডে জড়িত আছে কিনা তা তদন্তের পর বলা যাবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকালে ভারতীয় পুলিশের চার সদস্য ঢাকায় এসে পৌঁছান। ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাস হয়ে তারা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সদর দপ্তরে যান এবং সেখানে বৈঠক করেন। এরপর সন্ধ্যায় ডিবি কার্যালয়ে আসেন। অন্যদিকে ঘটনাটি তদন্তে গোয়েন্দা পুলিশের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলও শিগগির কলকাতায় যাবে।
আনোয়ারুল আজিম আনার ঝিনাইদহ-৪ (সদর ও কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য। তিনি ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টানা তিন বার আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন তিনি।
গত ১২ মে তিনি চিকিৎসার কথা বলে ভারতে যান। কিন্তু ১৪ মে থেকে পরিবার ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরটিও বন্ধ ছিল। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে থেকে দিল্লিতে বাংলাদেশ দূতাবাস ও কলকাতায় উপদূতাবাসে যোগাযোগ করে খোঁজ নিতে বলা হয়।
বুধবার কলকাতা পুলিশ জানায়, দিল্লি ও কলকাতা দূতাবাসের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পরই আনোয়ারুল আজিমের খোঁজে তৎপরতা শুরু করে তারা। কলকাতায় এসে এমপি আনোয়ারুল আজিম তার কথিত বন্ধু স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল বিশ্বাসের বাড়িতে উঠেছিলেন। ১৮ মে গোপাল স্থানীয় বরাহনগর থানায় আজিম ‘নিখোঁজ’ দাবি করে জিডি করেন।
বুধবার সকালে গোপাল বিশ্বাস স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, এমপি আজিমকে হত্যা করা হয়েছে বলে কলকাতা পুলিশ তাকে জানিয়েছে। কলকাতার নিউটাউনের বিলাসবহুল আবাসন ‘সঞ্জিভা গার্ডেনে’ এই এমপি হত্যার শিকার হন।







