নির্বাচন এলে বিএনপি-জামায়াত গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। তারা বলেছেন: নির্বাচন যত সন্নিকটে আসে বিএনপি-জামায়াত নির্বাচন বানচাল করার জন্য গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। তারা গণতান্ত্রিক পন্থা বাদ দিয়ে একটি ভুতুড়ে সরকার কায়েম করতে চায়।
শুক্রবার যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের যৌথ আয়োজিত শান্তির সমাবেশে আওয়ামী লীগের সিনিয়র এসব কথা বলেন।
এসময় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নানক বলেন: আজকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ শান্তি সমাবেশের ডাক দিয়েছে। কেন এবং কী কারণে এ সমাবেশে ডাক দেওয়া হয়েছে? কারণ নির্বাচন যত সন্নিকটে আসে বিএনপি-জামায়াত নির্বাচন বানচাল করার জন্য গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। তারা গণতান্ত্রিক পন্থা বাদ দিয়ে একটি ভুতুড়ে সরকার কায়েম করতে চায়। বিএনপির নেতারা গণতন্ত্রের কথা বলে কিন্তু তাদের জন্ম হয়েছিল সামরিক ছাউনিতে। জিয়ার পকেট থেকে বিএনপির জন্ম হয়েছিল। বিএনপির নেতা জিয়ার রহমান কারফিউ দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিল।
এসময় তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন: লন্ডনে বসে সন্ত্রাসের হুমকি দেন। এখন লাদেন রহমান হয়েছেন। আর লন্ডন থেকে প্রসাদসম বাড়িতে বসে বাংলাদেশে চাঁদাবাজি করে বাংলাদেশকেই রণক্ষেত্রে পরিণত করবেন। লন্ডনে বসে সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন। আর তিনি পালিয়ে গিয়ে লন্ডনে যে বসবাস করে, কোথা থেকে এলো সে টাকা। আপনারা নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করবেন না, করতে চাইলে যুব-স্বেচ্ছাসেবক ও ছাত্রলীগ রাজপথে রুখে দিবে।
তিনি বলেন: সামরিক জান্তা জিয়াউর রহমান বিএনপির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ওরা বলে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা। ভুলে গেলে চলবে না- হিন্দুরা নৌকায় ভোট দেয় বলে হিন্দুদের বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে বিএনপি। অথচ তারা আমাদের বলে গণতন্ত্রের কথা।
বিএনপি রাস্তায় নামলে দেশের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে যায় মন্তব্য করে নানক বলেন: ’১৪ সালে নির্বাচন বয়কটের নামে রাস্তা-গাছপালা, রেললাইন উপড়ে ফেলেছিল। হিন্দুরা নৌকায় ভোট দেয়, এজন্য ২০০১ সালে এরা হিন্দুদের বাড়ি লুটপাট করেছে।
আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান বলেছেন: যারা স্বাধীনতা অর্জন লুণ্ঠন করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে আজ আপনারা এখানে এসেছেন। বিএনপি সন্ত্রাস নৈরাজ্য আর আগুনসন্ত্রাস করে শত শত মানুষ হত্যা করেছিল, তারা আজ মাঠে নেমেছে। তাদের দাবি হলো, শেখ হাসিনার নাকি পদত্যাগ করতে হবে। দেশের ১৭ কোটি মানুষ শেখ হাসিনাকে শাসনভার দিয়েছে। পলাতক তারেকের ইশারায় তারা মামা বাড়ির আবদার নিয়ে এসেছে।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহউদ্দিন নাছিম বলেন: আমাদের একদফা শান্তি ও নির্বাচন। আমরা আছি আমরা থাকবো। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সন্ত্রাসীদের মোকাবিলা করবো। সারাদেশে জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে থাকবো।

আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্কুলজীবনে নারী কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত হয়েছিল। তাকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর ভিন্ন জায়গা থেকে এসএসসি পাস করে। বাংলাদেশের মানুষ উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যায়। কিন্তু তারেক রহমান ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জ গিয়ে নকল করে এসএসসি পাস করে। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন তারেক রহমান হাওয়া ভবন থেকে বিকল্প সরকার পরিচালনা করত।
তিনি যোগ করেন: বাংলাদেশে জঙ্গিদের উত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছিল তারেক রহমান। পাকিস্তান রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করার জন্য ষড়যন্ত্র করেছিল। বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে অস্থিরতা তৈরি করার জন্য সেখানের সন্ত্রাসীদের জন্য ১০ ট্রাক অস্ত্র পাচার করতে গিয়ে ধরা পড়েছিল। আজ সে বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছে।
যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের সভাপতিত্বে শান্তি সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। দলের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন।








