শরীয়াহভিত্তিক বেসরকারি এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হতে যাচ্ছে চতুর্থ প্রজন্মের পদ্মা ব্যাংক। এখন প্রশ্ন হচ্ছে পদ্মা ব্যাংকের গ্রাহক এবং ডিপোজিটরজের কী হবে? গ্রাহক এবং ডিপোজিটরদের এই একীভূতিতে শঙ্কিত হবার কিছু নেই বলে বলছেন ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলছেন: খারাপ ও ভালো ব্যাংক একীভূত করা হলে ডিপোজিটর অর্থাৎ গ্রাহক পর্যায়ে কোনও ভোগান্তি হওয়ার কথা না।কারণ একটা ভালো ব্যাংক যখন একটা খারাপ ব্যাংকের দায়িত্ব নিবে, তখন তারা সবদিক বিবেচনা করবে।
এ প্রসঙ্গে ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন বলছেন: একীভূত মানে হচ্ছে ওদের (খারাপ ব্যাংক) ব্যালেন্স শিট আর আপনার (ভাল ব্যাংক) ব্যালেন্স শিট এক হওয়া। তখন ভালো ব্যাংককে ডিপোজিটরদের দায়িত্বও নিতে হবে। তারা যদি বলে যে আমরা ডিপোজিটরদের টাকা দিবো না, তা তো হয় না।
যোগ করেন: যে ব্যাংক দায়িত্ব নিচ্ছে, তারা যদি শক্তিশালী হয় এবং তাদের যদি ভালো গভর্নিং বডি থাকে, তাহলে গ্রাহক পর্যায়ে কোনও সমস্যা হবে না। ডিপোজিটরদের বিষয়টা নিশ্চিত করেই একীভূত করতে হবে। তাই দায়িত্ব নেবার আগে শক্তিশালী ব্যাংকগুলো ভালোভাবে ভেবে নিতে হবে।
তার পরামর্শ: দায়িত্ব নেয়ার আগে দেখতে হবে যে ডিপোজিটরদের এগেইনস্টে দুর্বল ব্যাংকের কেমন সম্পদ আছে। সম্ভবত কম থাকারই কথা। কারণ ডিপোজিটের থেকে সম্পদ কম বলেই ওরা দুর্বল। তাই, ভালো ব্যাংককে ওটা জেনেশুনেই নিতে হবে যে আমি যে ব্যাংকটিকে নিচ্ছি, তার ‘ডিপোজিট লায়াবিলিটি’ আছে।
তবে এই একীভূতি করণ প্রক্রিয়ায় চাকরি হারানোর শঙ্কা হয়েছে পদ্মা ব্যাংকে কর্মরতদের। কারণ, সাধারণত পুরাতন কর্মীদেরকে রাখার শর্তে একীভূত হতে রাজি হয় না কোনও ব্যাংক। কেননা, একটি ব্যাংক এই ধরনের বিপদের মাঝে পড়ে তার কর্মীদের গাফিলতির জন্যই।

যেসব ব্যাংকের দীর্ঘদিন ধরে অবস্থা খারাপ তাদেরকে ভাল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার কথা বলে আসছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ সপ্তাহেই বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এবছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নিজেরা উদ্যোগ নিয়েই অন্য ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হতে পারবে খারাপ অবস্থানে থাকা ব্যাংকগুলো। তবে তাদের পরিচালকরা একীভূত ব্যাংকে পরিচালক থাকতে পারবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ব্যাংক হেলথ ইনডেক্স অ্যান্ড হিট ম্যাপ’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে দেশের ১২টির অবস্থা খুবই খারাপ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। বলা হচ্ছে ৯টি ব্যাংক ইতোমধ্যে রেড জোনে চলে গেছে। অন্য ৩টির অবস্থান ইয়েলো জোনে অর্থাৎ রেড জোনের খুব কাছাকাছি।
২০২৩ সালের জুন থেকে অর্ধ-বার্ষিক আর্থিক কর্মক্ষমতার ভিত্তিতে অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য ব্যাংকের স্বাস্থ্য সূচক তৈরি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা বিভাগ।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ভালো ব্যাংকের সঙ্গে দুর্বল ব্যাংকের একীভূত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে শিগগিরই একটি নীতিমালা করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেই নীতিমালার আওতায় একীভূত কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।








