ভারতকে দেওয়া ৪৫ মিনিটের সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদ্য সাবেক স্বরাষ্ট্র এবং বর্তমানে পাট ও বস্ত্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন: ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ চলাকালে সারা বাংলাদেশে এবং বিশেষ করে ঢাকায় প্রাণঘাতী সংঘর্ষে এক হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছে।
গতকাল (১৬ আগস্ট) শুক্রবার টেলিফোনের মাধ্যমে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নর্থইস্ট নিউজকে দেওয়া ৪৫ মিনিটের একটি ফ্রি-হুইলিং একটি সাক্ষাৎকারে ৭৬ বছর বয়সী এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন: ঢাকা এবং অন্যান্য জেলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুলিশ বাহিনীর প্রাণঘাতী অস্ত্রে গুলিবিদ্ধ জনতার বেশিরভাগই ছাত্র এবং যুবক।
ভারত সরকারের প্রতি আমার বার্তা: আপনারা কি ঢাকায় বন্ধুত্বপূর্ণ না শত্রু সরকার চান? কারণ যে দেশ পরাশক্তি হতে চায়, সেই দেশের বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশী দেশের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। আমরা কেউ টুকরো টুকরো গ্যাং নই। – এম সাখাওয়াত হোসেন
দায়িত্ব গ্রহণের পর এই বিষয়ে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন জানিয়ে তিনি বলেন: পুলিশ সদস্যদের শান্ত করতে টানা ৫ ঘণ্টা তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে হয়েছে। আমি তাদের জিজ্ঞেস করেছিলাম শেখ হাসিনার শাসনামলে তারা কাদেরকে হত্যা করেছে ও কার নির্দেশে হত্যা করেছে। অফিসারদের অনেকেই তখন কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা অনুশোচনায় ভুগছেন এবং অপরাধবোধের অংশ হিসেবে তাদের কেউ কেউ আমার পা ধরেন এবং আমাকে আলিঙ্গন করেন।
পুলিশ বাহিনীকে কীভাবে পরিচালনা করা হবে সেটি প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন ঠিক করবে জানিয়ে এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন: এটি একটি কঠিন কাজ। তবে বেশ কিছু অফিসারকে এরইমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই কর্মকর্তারা মাদক ব্যবসায় লিপ্ত, এছাড়াও বদলি-পোস্টিং র্যাকেট চালিয়ে বিপুল অর্থ উপার্জন করতেন। তদন্ত শেষ হলে তাদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অদেখা ষড়যন্ত্রকারী এবং শত্রুদের দ্বারা পরিবেষ্টিত উল্লেখ করে বর্তমান পাট ও বস্ত্র উপদেষ্টা বলেন: ভারত সরকারের প্রতি আমার বার্তা- আপনারা কি ঢাকায় বন্ধুত্বপূর্ণ না শত্রু সরকার চান? কারণ যে দেশ পরাশক্তি হতে চায়, সেই দেশের বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশী দেশের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। আমরা কেউ টুকরো টুকরো গ্যাং নই।








