চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • চ্যানেল আই টিভি

No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে যা বললেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

জান্নাতুল বাকেয়া কেকাজান্নাতুল বাকেয়া কেকা
২:০৬ অপরাহ্ন ১৫, নভেম্বর ২০২৫
- সেমি লিড, সাক্ষাতকার
A A
ছবি: অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সাথে চ্যানেল আইয়ের বিশেষ প্রতিনিধি জান্নাতুল বাকেয়া কেকা

ছবি: অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সাথে চ্যানেল আইয়ের বিশেষ প্রতিনিধি জান্নাতুল বাকেয়া কেকা

প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক, শিক্ষাবিদ, গবেষক ও ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক। এছাড়াও তিনি মার্ক্সবাদী তাত্ত্বিক হিসেবেও ব্যাপক পরিচিত।

গত ১৭ অক্টোবর রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় জুলাই সনদ সাক্ষরের পরদিন তিনি বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে চ্যানেল আই-এর সাথে কথা বলেছেন। তার সাথে কথা বলেছেন চ্যানেল আই-এর বিশেষ প্রতিনিধি জান্নাতুল বাকেয়া কেকা।

প্রশ্ন: কেমন আছেন স্যার?

উত্তর: আছি, চলে যাচ্ছে। একটানে একটু দীর্ঘশ্বাস টেনে বললেন তিনি।

প্রশ্ন: এই যে ভালো থাকা তা কতটা ভালো?

উত্তর: কেটে যাচ্ছে দিন। নানান চড়ায়-উৎরাই অবশ্যই আছে।

Reneta

প্রশ্ন: গেছে যে দিন আর আজকের যে দিন, কি পরিবর্তন দেখছেন?

উত্তর: পরিবর্তন যেটা হচ্ছে সেটা যদি আজকের প্রসঙ্গে বলি, জীবন আনন্দের ছিল। সেটা আমি মনে করি, আমার জীবনেও আনন্দ ছিল।

পরিবর্তন যেটা হয়েছে সেটা হলো যে, উন্নয়ন হয়েছে। আমি তিন আমল দেখেছি। বৃটিশ রাজত্ব, পাকিস্তানী শাসন এরপর বাংলাদেশ। এই আমলে উন্নয়ন ঘটেছে ধারবাহিকভাবে। কিন্তু উন্নয়নের ধারা ছিল একটাই, সেটা হলো ‘পূঁজিবাদী’ উন্নয়নের ধারা। এই পুঁজিবাদি উন্নয়নের ধারা যা করে আমাদের জন্যও সেটাই করেছে। তিনি পুঁজিবাদী উন্নয়নের নানান প্রতিবন্ধকতার ধারাবাহিক ও ক্রমানুসারে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন-

প্রথমত: পুঁজিবাদি উন্নয়ন এক নম্বরে যা করে এই উন্নয়ন ‘বৈষম্য বৃদ্ধি’ করে।

দ্বিতীয়ত: এই উন্নয়ন আরেকটি কাজ করে প্রকৃতির সঙ্গে সঙ্গতি রাখে না। প্রকৃতির সঙ্গে শত্রুতা করে। প্রকৃতিকে নির্যাতন করে। ফলে প্রকৃতিও প্রতিশোধ নেয়। এইটিই বড় আকারে করেছে সেই পরিবর্তন হয়েছে জোরেসোরে।

তৃতীয়ত: আরো যেটা হলো এই উন্নয়ন কিন্তু কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করে না।

এই উন্নয়নের বাইরের দিক আছে। দালান কোঠা, রাস্তাঘাট, গাড়ি-ঘোডা, এইগুলো সব ঠিক আছে। কিন্তু ভেতরের সেটা প্রয়োজন সেইটা হচ্ছে অবকাঠামোর অন্তর্গত যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সেটাই ঘটেনি। আর অর্থনৈতিক উন্নয়ন করার জন্য/ঘটানোর জন্য প্রধান যেই জিনিস দরকার তা হলো বিনিয়োগ। সেই বিনিয়োগটাই ঘটলো না। উল্টো যেটা ঘটলো সেটা হলো যে, আমাদের সম্পদ, যে সম্পদ সাধারণ মানুষের শ্রমের দ্বারা তৈরি সেই সম্পদ বিদেশে পাচার হয়ে গেল। এটা আগেও ছিল। সেই মোঘল আমলে আমাদের সম্পদ পাচার হয়েছে দিল্লীতে। পাকিস্তান আমলে করাচিতে এবং বাংলাদেশ আমলে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের শহরে পাচার হয়ে গেছে। আমাদের সাধারণ মানুষের শ্রমে-ঘামের উপার্জনের সম্পদ।

আর এই সময় আরেকটি বড় ঘটনা যেটা ঘটেছে সেটা হলো যে, মানুষের দেশপ্রেম কমে গেছে এটা একটি বড় দিক। এই যে, দেশপ্রেম খুব কমে যাচ্ছে উন্নয়নের সাথে সাথে এটি লক্ষণীয়। অর্থাৎ মানুষেরা ক্রমাগত বিচ্ছিন্ন হচ্ছে পরস্পর থেকে।আত্মকেন্দ্রীক হচ্ছে এবং আত্মকেন্দ্রীতার ফলে তার সামাজিকতার যে বোধ সেটা কমে যাচ্ছে। যে ধরণের সহিংসতা, পারিবারিক হিংস্রতা, যে ধরনের ধর্ষণ, গণধর্ষণ আজকে আমরা দেখি সেটা আগের সময়ে মানে আমাদের সময়ে ছিল অকল্পনীয়। এসব ঘটছে এই কারণে যে, মানুষের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাবোধ সেটা নেই। মানুষ নিজের বোধকেই প্রধান মনে করে এবং মানুষের মধ্যে ওই যে, বিচ্ছিন্নতা তৈরি হচ্ছে সেটা পুঁজিবাদী উন্নয়নের অবদান। এই যে পরিবর্তনের প্রথম কারণ যদি বলি বিচ্ছিন্নতা, আত্মকেন্দ্রীকতা, দেশপ্রেম কমে যাওয়া। এসবের পেছনেও কিন্তু অর্থনৈতিক বিষয়টি জড়িত।

কিন্তু অর্থনৈতিক কারণ যদি বলি তাহলে বলবো অর্থনীতির গতি সঞ্চার করতে পারে সেই কর্মসংস্থান তৈরি হয়নি। বরং কর্মের সংস্থানের অভাব রয়েছে যা অবশ্যই বৃদ্ধি করতে হবে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি হবে না, যদি না আমরা বিনিয়োগ বৃদ্ধি করি। আর বিনিয়োগ বৃদ্ধি করার জন্য যে পরিবেশ সেই পরিবেশটা তৈরি হয়নি। বিনিয়োগকারীরা যে, আস্থা অর্জন করবে, আস্থার ওপর ভিত্তি করে বিনিয়োগ করবে সেই অবস্থাটা তৈরি হচ্ছে না, এগুলো হচ্ছে অন্যদিক। ‘আসলে উন্নয়নের অন্তরালে অন্তঃকষ্ট আছে এই হচ্ছে আমার অভিজ্ঞতা’।

ছবি: অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সাথে চ্যানেল আইয়ের বিশেষ প্রতিনিধি জান্নাতুল বাকেয়া কেকা

প্রশ্ন: দেশ প্রেম কমে যাচ্ছে বললেন, এর সাথে রাজনৈতিক সচেতনতা ও প্রজ্ঞার যোগসূত্র আছে নিশ্চয়?

উত্তর: রাজনৈতিক প্রজ্ঞা তো থাকবেই। এটা আলাদা কথা। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে দেশপ্রেমের ক্ষেত্রে অতীতে কি ঘটেছিল। আজ কি ঘটেছে বলে পাল্টা প্রশ্ন তোলেন এই প্রবীণ শিক্ষক-লেখক বুদ্ধিজীবী।

আমরা বৃটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। পাকিস্তানী শাসনের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ যে উপনিবেশ ছিল তার বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করতে চেয়েছি, ঐকবদ্ধভাবে। একাত্তরে আমরা ভয়ংকর বিপদে ছিলাম, মৃত্যু প্রতিমুর্হূতে আমাদের জন্য অপেক্ষা করেছে। কিন্তু তারপরও আমরা আশাবাদী ছিলাম, ঐকবদ্ধ ছিলাম। আমরা মনে করতাম আমরা সকলে একসাথে আছি। যে মুহূর্তে দেশ স্বাধীন হলো তারপর থেকেই বিচ্ছিন্ন হতে শুরু করলাম। আমরা তখন আর সমষ্টিগত স্বপ্ন আর ধারণ করলাম না। আমাদের প্রত্যেকের স্বপ্ন নিজস্ব স্বপ্নে পরিণত হল। সমষ্টিগত মুক্তির যে স্বপ্নটা ছিল একটি নতুন সমাজব্যবস্থার যেখানে মানুষের সাথে মানুষের অধিকার এবং সুযোগের সাম্য থাকবে। সেখানে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীয়করণ ঘটবে। সেখানে প্রত্যেকটি জায়গাতে প্রতিটা স্তরে যর্থাত নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে। সেরকম ব্যবস্থা আমরা চেয়েছিলাম-সেটাই ছিল আমাদের মুক্তির স্বপ্ন। তো মুক্তি তখন ব্যক্তিগত চিন্তায় চলে গেল। সমষ্টিগত মুক্তির চিন্তা, মুক্তির স্বপ্ন ব্যক্তিগত স্বপ্নের আঘাতে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেল। সেই স্বপ্ন আর আমরা জোড়া লাগাতে পারলাম না। কেননা যত সরকার আমাদের এখানে ক্ষমতায় এসেছে প্রতিটা সরকারই কিন্তু ধারাবাহিকভাবে ওই নিজেদের স্বার্থই দেখেছে। তারা ক্ষমতায় থাকার বা ক্ষমতায় যাওয়ার প্রয়োজনেই রাজনীতি করেছে। এই যে মানুষের মুক্তি, সেটা কিন্তু তথাকথিত উন্নয়ন দিয়ে হবে না।

উন্নয়ন হলো যেটা আমি বললাম, পুঁজিবাদি ধারায়, কিন্তু এই উন্নয়ন দিয়ে মানবের সত্যিকারের উন্নয়ন হবে না। এর জন্য দরকার হবে একটি গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তোলার এবং এক্ষেত্রে মালিকানার প্রশ্নটি খুব জরুরি। ব্যক্তিগত মালিকানার জায়গা থেকে আমাদেরকে সামাজিক মালিকানায় যাবার জন্য চেষ্টা করতে হবে। সেই সামাজিক মালিকানা ছাড়া এই পৃথিবীতে শুধু আমাদের দেশে না সারা পৃথিবীতেই এখন ব্যক্তি মালিকানার যে চরম পর্যায় চলে এসেছে এবং ব্যক্তিগত মালিকানার দ্বারা তার পুঁজিবাদী ব্যবস্থা সেটা এখন ‘ফ্যাসিবাদের’ রূপ ধারণ করেছে।

মানুষের কন্ঠ রোধ করা হচ্ছে। গণমাধ্যম এখন কৃতদাস হয়ে গেছে যার যার ক্ষমতার মানদণ্ডে। ফলে সেটা পৃথিবীর মুক্তিও কিন্তু নির্ভর করছে ব্যক্তিগত মালিকানার জগত থেকে সামাজিক মালিকানার জগতে পর্দাপণের উপরে। সেটা আমার, আমাদের প্রত্যেকটা দেশকে করতে হবে আলাদা আলাদাভাবে। কিন্তু এটা শুধু আমাদের সমস্যা না, পুরো বিশ্বের সমস্যা। এটা একটি দেশের সমস্যা না। সেই জন্য আমরা খুব বিপদের মধ্যে আছি মানে সারা পৃথিবীর মানুষই বিপদের মধ্যে রয়েছি।

প্রশ্ন: দেশের বর্তমান পরিস্থিতি কিভাবে দেখছেন? কি বলবেন বর্তমান নানান কার্যক্রম নিয়ে?

উত্তর: আসলে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা খুব জরুরি। এটা করতে পারে জনগন। সেই জন্য যা দরকার তা হলো জনগনের সচেতনতা বাড়ানো। সেটা খবই অত্যাবশকীয়। জনসচেতনার মান যদি আমরা উন্নত করতে না পারি অর্থা’ সংস্কৃতির মান বাড়াতে হবে। আজকে বাংলাদেশে সংস্কৃতির চর্চা নেই। এখানে অন্ধকার হয়ে গেছে। গান, নাটক, বিতর্ক, পাড়া-মহল্লায় পাঠাগার এবং সেখানে মেলামেশা-খেলাধুলার মাধ্যমে একে অন্যের সাথে সামাজিকীকরণের বিষয়গুলি নেই। এখন মানুষ প্রযুক্তির মধ্য দিয়ে যেটুকু বিনোদন পাওয়া যায় সেই বিনোদনের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। সেই বিনোদন কিন্তু একাকী অর্থাৎ আমরা দেখছি যে, তিনজন মানুষ বসে আছে কিন্তু সবাই সেই খানে বসেই যে যার মত মোবাইলে ব্যস্ত। একজন মানুষ আরেক জনের সাথে কথা বলছে না। এই যে অসামাজিকতা, এই যে বিচ্ছিন্নতা। এটা দূর করতে হলে আমাদের সাংস্কৃতিক চর্চা করতে হবে। এ চর্চার মধ্য দিয়ে সামাজিকতার যে বোধ সেটা বাড়াতে হবে।

সংস্কৃতি চর্চা বলতে আমি আদর্শ, নিরপেক্ষ সংস্কৃতির চর্চার কথা বলছি না। বরং সংস্কৃতির নিজস্ব আদর্শ থাকবে। সেটা হচ্ছে ঔই যে আমরা নতুন সমাজব্যবস্থার স্বপ্ন দেখে ছিলাম, নতুন ধরনের রাষ্ট্র ব্যবস্থার কথা ভেবেছিলাম। সেই স্বপ্ন এবং সেই ভাবনা, এই দুটিকে ধারন করতে পারে যে আদর্শ, সেই আদর্শের আলোকে ও অনুকূলে যে সংস্কৃতিচর্চা সেগুলোকে সামনে আনতে হবে। বিনোদন থাকবে, কিন্তু বিনোদন উদ্দেশ্যবিহীন হবে না। বিনোদনের মধ্য দিয়ে মানুষ সচেতন হবে। এমনকি খেলাধুলার মধ্য দিয়েও মানুষ সচেতন হবে। ওসব এখন আমাদের এখানে হচ্ছে না, এটা দুঃখজনক।

প্রশ্ন: উগ্র, ধর্মান্ধ, পশ্চাদমুখী চিন্তার বিকাশ ও বিস্তার কি ওই সংস্কৃতি চর্চার গ্যাপের কারণেই হচ্ছে?

উত্তর: অবশ্যই। মূলত দুটি কারণে এমন ঘটনা ঘটছে।

প্রথমত: একটি হচ্ছে সাংস্কৃতিকচর্চা নেই। দ্বিতীয়ত: মানুষ কিন্তু ন্যায় বিচার পাচ্ছে না। সমাজে ন্যায় বিচার নেই। আদালতে নেই, সামাজিক ভাবে নেই। এমনকি পারিবারিক পরিমন্ডল, সেখানেও নেই। এখন মানুষেরা ন্যায় বিচার যদি না পায় তখন মানুষ কার উপর নির্ভর করবে? এখন মানুষ নির্ভর করে পরকালের উপর। ইহকালে পেলাম না পরকালে বিচার হবে। ইহকালে তুমি আমার ওপর অত্যাচার করলে এর শাস্তি তুমি একদিন পাবে। যেদিন তুমি এখানে এই ইহজগতে থাকবে না। এই যে নির্ভরশীলতা পরকালের ওপর, এই জগতের উপর অনাস্থা এইটি কিন্তু মানুষকে হতাশ করে। এই হতাশার দিক থেকে মানুষ বেরিয়ে আসতে চায়। তখনই কারো কাছে আশ্রয় চায়। তখনই এই আশ্রয় চাইতে গিয়ে মানুষ ধর্মের উপর নির্ভরশীল হতে পারে। এটা খুব স্বাভাবিকভাবেই আমাদের দেশে ঘটছে।

প্রশ্ন: রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে নানান প্রস্তাবনা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো সাথে দীর্ঘ নয় মাসের আলোচনা শেষ করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। বিষয়গুলো কিভাবে দেখছেন?

উত্তর: আসলে ওই বিষয়গুলোতে আমার কোন পর্যবেক্ষণ নেই। তবে আমি মনে করি, নির্বাচন ছাড়া আমাদের আর অন্য কোন উপায় নেই ক্ষমতা হস্তান্তরের। এখন এই সরকার অন্তবর্তী সরকার এবং অন্তবর্তী সরকারের অন্যতম একটিই দায়িত্ব হচ্ছে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হলে নির্বাচন ছাড়া আর অন্য কোন উপায় নেই। কাজেই নির্বাচন হওয়া দরকার। শুধু নির্বাচন নয়, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন। গ্রহণযোগ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হওয়া দরকার যাতে করে একটি পরিবর্তন ঘটে ক্ষমতা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে। তবে শুধু একটি নির্বাচন নয়, এরপরে যত নির্বাচন হতে পারে একটার পর একটি ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নিরবচ্ছিন্নভাবে সময়মতো ও শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরে নির্বাচন হওয়া উচিত।

যে সরকার ক্ষমতায় আসবে তার দায়িত্বই হবে শান্তিপূর্নভাবে মেয়াদকাল শেষে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। তারা বুঝবে তাদের জবাবদিহিতার দায় আছে। তারা বুঝবে তারা যদি জনগণের মঙ্গলের জন্য কাজ না করে তাহলে পরবর্তী নির্বাচনে যেতে পারবে না। যারা রাষ্ট্র পরিচালনায় আসতে চায়, তাদেরও জনগনের সমর্থন নিয়েই আসতে হবে। তারা জনগণের পক্ষে দাঁড়াবে। তার মানে সমষ্টিগত সমস্যা, জনগণের জীবনের সংকট, অর্থনীতি, বিশৃঙ্খলা, অনিশ্চয়তা সেগুলোর সমাধানের জন্য যারা ক্ষমতায় আসতে চায় তাদের জনগণের সাথে থাকতে হবে। কাজেই যারা ক্ষমতায় আসবে তারাও ভাববে যে, জনগণ সমর্থন না দিলে তারা আসতে পারবে না। তাদের এটাও ভাবতে হবে যে, জনগণ সমর্থন না দিলে ক্ষমতায় যাওয়া সম্ভব না। কাজেই জনগণই হতে পারে মূল নিয়ামক। আসলে রাজনীতির মূলনীতিই হলো ক্ষমতা। এখন ক্ষমতা যদি শাসক শ্রেণির হাতে থাকে জনগণের হাতে না থাকে তখনই রাষ্ট্র ব্যবস্থাটি স্বেচ্ছাচারী-স্বৈরাচারী হয়ে উঠে।

প্রশ্ন: ১৯৭২’র সংবিধানের চার মূলনীতি ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ও ইস্তেহার নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবনার সাথে দ্বিমত রয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের। ১৭ অক্টোবর গণফোরামসহ চারটি বামদল সনদে সই করেনি? বিষয়টি কিভাবে দেখেন?

উত্তর: আমি মনে করি যে, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কাছে আমাদের যেতেই হবে, সে যেভাবেই হোক। যে চেতনাটা একটি সামাজিক মালিকানার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্যে। ওই যে বললাম, সামাজিক মালিকানা অর্থাৎ সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য গণতান্ত্রিক উপায়ে ওই জায়গায় যেতে চেষ্ঠা করবো। আমার বক্তব্য এটাই। এর বাইরে আমি আর ব্যাখাও করতে পারবো না। কারণ এই বিষয়ে আমি বিশেষজ্ঞ নই। আমার ধারণা ও চিন্তা হচ্ছে এটা যে, আমাদের লক্ষ্য হবে-সামাজিক মালিকানা প্রতিষ্ঠা এবং সেই সামাজিক মালিকানা প্রতিষ্ঠার দিকেই আমরা এগুবো আপাতত গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে। এই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিটাকে আমাদের বিশ্বাস করতে হবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে জনগণ। সেই জন্য যেটা দরকার জনগণের সচেতনতা বাড়ানো। সেটাই হচ্ছে অত্যাবশকীয়। জনগণের মধ্যে জনসচেতনার মান যদি আমরা উন্নত করতে না পারি অর্থাৎ-সাংস্কৃতিক মান। সাংস্কৃতিক চেতনা কিন্তু বায়বীয় নয়। সচেতনতা থাকে সাংস্কৃতির মধ্যে। এখন সাংস্কৃতিক মান নেমে যাচ্ছে। আজকে  বাংলাদেশে সংস্কৃতিকচর্চা নেই। সংস্কৃতিচর্চার মধ্যে দিয়ে আমাদের সামাজিকতার বোধ বাড়াতে হবে।

প্রশ্ন: জুলাই সনদে সংবিধানের ১৫০ ’র ২ অনুচ্ছেদের ৫ ও ৬ বাতিল করা হয়েছে। আবার বিদ্যমান সংবিধানে রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি রেখে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত নতুন তিনটি মুলনীতি যুক্ত করা হয়েছে কি না তা স্পষ্ট না অভিযোগ সিপিবিসহ বাম দলগুলোর।

উত্তর: বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মূল জায়গাটা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মধ্যে রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি ছিল সেগুলি কিন্তু খুব আকর্ষীকভাবে আসেনি। এগুলো দীর্ঘ ও ধারবাহিক সংগ্রামের ভেতর থেকে বেরিয়ে এসেছিল এবং সেগুলোই আমাদের রাষ্ট্রীয় ভিত্তি। ওই জায়গা থেকে আমরা সরে যেতে পারবো না। ওই রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ব্যাখা করা যাবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা একটি সমাজ বিপ্লবের চেতনা। ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনগণের মুক্তির সংগ্রাম। সুতরাং এদেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরতেই হবে। সংবিধানের চারটি মূলনীতি হঠাৎ করেই আসেনি, এর পেছনে দীর্ঘ ও ধারাবাহিক সংগ্রামের ইতিহাস রয়েছে।

প্রশ্ন: দেশের এই অবস্থায় আপনার প্রত্যাশা কি?

উত্তর: আমরা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কথা যখন বলি তখন মূলত এটা বোঝাতে চাই যে, জনগণই নির্ধারণ করবে ক্ষমতা কার হাতে যাবে। অর্থাৎ জনগণই হবে ক্ষমতার মালিক। এক্ষেত্রে একমাত্র পদ্ধতি হচ্ছে নির্বাচন। নির্বাচন ছাড়া অন্য কোন পদ্ধতি আমাদের জানা নেই। আমরা ১৯৬৯’র নির্বাচন দেখেছি, ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধ করেছি। মুক্তিযুদ্ধে আমরা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বিজয়ী হয়েছি। তবে এখনো নির্বাচনই একটি বিধিবদ্ধ স্বীকৃত পথ।ওই পথেই আপাতত আমাদের দেখতে হবে।

আপনাকে ধন্যবাদ স্যার। আপনি ভালো থাকবেন স্যার।

আপনিও ভালো থাকবেন।

Jui  Banner Campaign
ট্যাগ: অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীজুলাই সনদ সাক্ষরমহান মুক্তিযুদ্ধরাজনৈতিক অবস্থা
শেয়ারTweetPin

সর্বশেষ

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অভিযানে মারধর: ৪ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬

দেশে প্রথম এআই অটো জুম ক্যামেরা নিয়ে বাজারে যে স্মার্টফোন

ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হলেন মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী

ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অর্থ প্রতিমন্ত্রীর নামে গুজব, তথ্য অধিদফতরের সতর্কবার্তা

ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬

ব্রুকের সেঞ্চুরি, পাকিস্তানকে হারিয়ে সবার আগে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড

ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬
iscreenads

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: জাহিদ নেওয়াজ খান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In
Bkash Stickey January 2026 Bkash Stickey September 2025 Desktop

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • প্রচ্ছদ
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT