চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • চ্যানেল আই টিভি

    https://www.youtube.com/live/o6SJvPy15o4?si=NGcg3Is-DnwAnvmd

No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

জামিন স্থগিতের পর কোন পথে আবদুর রহমান বদি?

তৌফিক আহমেদতৌফিক আহমেদ
২:৩২ অপরাহ্ন ০৬, মার্চ ২০২৬
- সেমি লিড, বাংলাদেশ
A A
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উখিয়া-টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি কেবল একজন ব্যক্তি নন, বরং একটি নির্দিষ্ট সময়ের রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রতীকে পরিণত হয়েছিলেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে তার আইনি লড়াই এবং কারাবাস দেশের বিচারিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির মতো তিনিও আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছেন। সর্বশেষ বগুড়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘাত ও অর্থায়নের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তার জামিন স্থগিতের সিদ্ধান্তটি আইনি ও রাজনৈতিক- উভয় দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ।

বগুড়ার মামলা ও আদালতের বর্তমান নির্দেশনা

আবদুর রহমান বদির আইনি লড়াইয়ের বর্তমান কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বগুড়ায় সংঘটিত একটি সহিংসতার ঘটনা। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সময়ে ওই দিন বগুড়ায় যে সংঘাত হয়েছিল, সেই ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় বদিকে অর্থের জোগানদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই মামলায় জামিন চেয়ে বদির করা আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করে তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছিলেন। তবে এই আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ দ্রুততার সঙ্গে উচ্চ আদালতে স্থগিতাদেশের আবেদন জানায়।

জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক বৃহস্পতিবার স্থগিতাদেশের এই আদেশ দেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে আবদুর রহমান বদির কারামুক্তি আপাতত ঝুলে গেল। এই শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জহিরুল ইসলাম সুমন ও মো. আক্তারুজ্জামান। পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জহিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন যে, চেম্বার আদালত হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছেন এবং রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনটি আগামী ৯ মার্চ আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে বিস্তারিত শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। অর্থাৎ, আগামী ৯ মার্চের আগে তার জামিন পাওয়ার কোনো আইনি সুযোগ নেই।

Reneta

গ্রেপ্তারের প্রেক্ষাপট ও আইনি জটিলতা

আবদুর রহমান বদির বর্তমান এই পরিস্থিতির সূত্রপাত ঘটে ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট। ওই দিন চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ এলাকা থেকে র‍্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের সময় র‍্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, টেকনাফে একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা বেড়েছে এবং বগুড়ার এই সহিংসতা মামলাটি এখন তার কারামুক্তির পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন সংসদ সদস্য তার নিজ এলাকার বাইরে অন্য জেলায় সহিংসতার অর্থদাতা হিসেবে অভিযুক্ত হওয়ার ঘটনাটি আইনি প্রক্রিয়ায় এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

টেকনাফের রাজনীতি ও বিতর্কিত অধ্যায়

আবদুর রহমান বদির রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি ২০০৮ ও ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে তার এই দীর্ঘ রাজনৈতিক সময়ে উন্নয়নের চেয়ে বিতর্কই তাকে বেশি তাড়া করেছে। বিশেষ করে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা পাচার ও মাদক কারবারের অভিযোগে তার নাম বারবার জাতীয় গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। যদিও তিনি সবসময় এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন এবং নিজেকে নির্দোষ দাবি করে এসেছেন। কিন্তু মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সময়ে তৈরি করা তালিকায় তার এবং তার পরিবারের সদস্যদের নাম উঠে আসা একটি বড় বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

এমনকি আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকেও মাদক পাচার রোধে তার বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। কক্সবাজারের মতো একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ভৌগোলিক অবস্থানে থেকে তার রাজনৈতিক প্রভাব এবং মাদক কারবারের অভিযোগের এই সহাবস্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক দীর্ঘস্থায়ী আলোচনার বিষয়। সাংবাদিকতার নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেখলে বলা যায়, তার বিরুদ্ধে আনীত এসব অভিযোগ যেমন গুরুতর, তেমনি তার পক্ষ থেকে দেওয়া আত্মপক্ষ সমর্থনের যুক্তিগুলোও আইনি প্রক্রিয়ায় বিবেচ্য।

পরিবারতন্ত্র ও ক্ষমতার ধারাবাহিকতা

আবদুর রহমান বদির রাজনৈতিক জীবনের একটি বিশেষ মোড় আসে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়। দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে তিনি নিজে নির্বাচনের অযোগ্য হয়ে পড়েন। তবে রাজনৈতিকভাবে তিনি এতটাই প্রভাবশালী ছিলেন যে, দল থেকে তার পরিবর্তে তার স্ত্রী শাহীন আক্তারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে শাহীন আক্তার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক মহলে এটি ব্যাপকভাবে আলোচিত যে, শাহীন আক্তার এমপি হলেও নেপথ্যে ক্ষমতার আসল চাবিকাঠি আবদুর রহমান বদির হাতেই ছিল। এই যে ব্যক্তি বদলালেও প্রভাব বলয় অপরিবর্তিত রাখা, এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার একটি নির্দিষ্ট ঘরানাকে প্রতিফলিত করে।

বিচারহীনতা বনাম জবাবদিহি

বিগত দেড় দশকে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় একটি বড় অভিযোগ ছিল যে, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থাকা প্রভাবশালীরা আইনের ঊর্ধ্বে থাকেন। আবদুর রহমান বদির ক্ষেত্রেও একই ধরনের ধারণা জনমনে প্রতিষ্ঠিত ছিল। বিশেষ করে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মকর্তাদের গায়ে হাত তোলা বা ক্ষমতার দাপট দেখানোর যে সব অভিযোগ গণমাধ্যমে এসেছে, সেগুলোর বিচার নিয়ে জনমনে সংশয় ছিল। ৫ আগস্টের পর সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে এবং সাবেক এই সংসদ সদস্যকে এখন একাধিক মামলায় আইনি লড়াই করতে হচ্ছে।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢালাও মামলার একটি সংস্কৃতি দেখা গেছে। আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে বগুড়ায় করা সহিংসতার মামলাটি তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে। তিনি সত্যিই সহিংসতার জন্য অর্থায়ন করেছিলেন কি না, তা আদালতে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রমাণিত হতে হবে। কেবল রাজনৈতিক পরিচয় বা অতীতের বিতর্ককে কেন্দ্র করে নয়, বরং সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই বিচার হওয়া কাম্য।

দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। আবদুর রহমান বদির ক্ষেত্রেও আইনি প্রক্রিয়া চলমান। বগুড়ার মামলায় তার জামিন স্থগিতের সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, উচ্চ আদালত বিষয়টি নিয়ে অধিকতর শুনানির প্রয়োজন মনে করছেন। রাষ্ট্রের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য অনুযায়ী, ৯ মার্চের শুনানি এই মামলার পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণ করবে।

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি বড় আকাঙ্ক্ষা হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন কিংবা জননিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটিয়েছেন, তাদের বিচার হওয়া দরকার। একই সঙ্গে খেয়াল রাখতে হবে যেন বিচারবিভাগ কোনো রাজনৈতিক প্রভাবে প্রভাবিত না হয়। আবদুর রহমান বদির এই আইনি টানাপোড়েন বাংলাদেশের আইনের শাসনের একটি লিটমাস টেস্ট হিসেবে দেখা যেতে পারে।

আবদুর রহমান বদির রাজনৈতিক জীবনের উত্থান ও বর্তমান পতন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। টেকনাফের সীমান্ত থেকে শুরু হওয়া তার প্রভাব এখন বগুড়ার আদালতের আইনি প্যাঁচে বন্দি। ৯ মার্চ আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটি যেমন তার ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতার জন্যও একটি বড় বার্তা। নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেখলে, বদির বিরুদ্ধে আনা মাদক, অর্থপাচার ও সহিংসতার অভিযোগগুলোর একটি স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক বিচারই দীর্ঘমেয়াদে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে মুক্তির পথ দেখাতে পারে।

Channel-i-Tv-Live-Motiom

ট্যাগ: আবদুর রহমান বদিউখিয়া-টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য
শেয়ারTweetPin

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: জাহিদ নেওয়াজ খান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In
Bkash Stickey January 2026 Bkash Stickey September 2025 Desktop

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • প্রচ্ছদ
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT