এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই গণভোটের আয়োজন করা হবে বলে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঘোষণায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টায় জরুরি সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের ওপর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
সংবাদ সম্মেলনে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও ঐকমত্য কমিশনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা আশা করেছিলাম প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে সংকটের নিরসন হবে। জাতি সে আশায় অপেক্ষা করছিলেন, প্রতীক্ষা করছিলেন। কিন্তু আমারা ভাষণে যা পেলাম, তিনি জনগণের অভিপ্রায়ে দীর্ঘ নয়মাস জাতীয় ঐকমত্য কমিশন, রাজনৈতিক দল ও স্টেক হোল্ডারদের প্রচেষ্টা যে সংস্কারগুলো নিয়ে আলোচনা চলছিল, তার ভিত্তিতে জুলাই সনদ জারি ও আদেশ হয়ে গেছে। ইতোমধ্যেই সেটার গেজেট প্রকাশ হয়েছে।
জামায়াতে আমির বলেন, গণভোট প্রসঙ্গে জনগণের যে অভিপ্রায় ও গণদাবিকে উপেক্ষা করে একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের ঘোষণা দিয়েছেন। আমরা এখানে বাংলাদেশ জামায়তেদ ইসলামীর পক্ষ থেকে খুবই পরিষ্কার করে বলতে চাই, প্রধান উপদেষ্টা একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের ঘোষণায় জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। জনগণের যে অভিপ্রায় ছিল, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে কী কী বিষয়ে সংস্কার হলো; নতুন প্রস্তাবিত জুলাই চার্টারের ভিত্তিতে সংবিধানের কী কী সংশোধনী প্রস্তাব যাচ্ছে। যে ৪৮টি প্রস্তাবে আমরা সর্বসম্মত হয়েছি, সাংবিধানিক সংস্কারসহ অন্যান্য সংস্কার এগুলো জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে জাতিকে জানাতে হবে। ভোটাররা জানবেন, তার ওপর মাইন্ড সেট হবে, তারপরই তার ওপরে আমরা হ্যাঁ না মতামত দেব। কিন্তু একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট হলে ভোটার জুলাই চার্টার সম্পর্কে অবহিত হয়ে হ্যাঁ-না ভোটের আগে বুঝবেন, মাইন্ড সেটআটাপ করবেন। অথচ একই দিনে তাকে ওই সিদ্ধান্ত নিতে হবে আবার এক জাতীয় নির্বাচনে ভোটও দিতে হবে। এটা একটা সংকট তৈরি করবে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে সহিংসতা হয়ে থাকে। কোনো কোনো কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়। দুই-পাঁচটা কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেল, গোলাগুলি হলো, স্থগিত হয়ে গেল। এমন ভোট হলে তো যেকোনো কেন্দ্রে ঘটতে পারে। জাতীয় নির্বাচনে বন্ধ হয়ে গেলে গণভোটের কী হবে? এর কোনো জবাব নেই।
প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, জুলাই সনদে এই যে সাড়ে ১২ কোটি ভোটার হ্যাঁ বলবে, না বলবে। নির্বাচনের আগে জাতিকে তা জানতে হবে, স্টাডি করতে হবে। নির্বাচন কমিশন সেটা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবেন। তারপর তো এই ক্রিটিক্যাল বিষয়টি নিয়ে ভোটার সিদ্ধান্ত নেবেন।
জামায়াতে ইসলামীসহ আরও আটটি দল পরবর্তীতে করণীয় ও প্রতিক্রিয়া জানানো হবে এবং সন্ধ্যা ৬টায় এই ভাষণের ওপর পর্যালোচনায় বসবেন। পরবর্তীতে এই ভাষণের বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান তিনি।








