পাকিস্তানের করাচিতে দাউদ ইব্রাহিমের মৃত্যুর খবরে ইন্টারনেট তোলপাড়। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারত থেকে পলাতক গ্যাংস্টারকে বিষ খাওয়ার পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু তার মৃত্যুর খবরটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। তিনি করাচির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মঙ্গলবার ১৯ ডিসেম্বর ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীর এমনকি পাকিস্তানের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার উল হক কাকারের অ্যাকাউন্টের স্ক্রিনশট পোস্ট করেন, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে দাউদ মারা গেছে। কিন্তু বার্তাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বেশ কিছু ফ্যাক্ট-চেকার স্পষ্ট করেছে যে, এটি পাকিস্তানের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী কাকারের অ্যাকাউন্ট নয় এবং দাউদ সম্পর্কে মৃত্যুর বিষয়টিও নিশ্চিত নয়।
ভাইরাল হওয়া ভুয়া সেই বার্তায় বলা হয়, ‘মানবতার মসীহ, প্রতিটি পাকিস্তানি হৃদয়ের প্রিয়, আমাদের প্রিয় মহামান্য দাউদ ইব্রাহিম অজানা বিষক্রিয়ায় মারা গেছেন। করাচির একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আল্লাহ তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করুন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।’
কিন্তু ফ্যাক্ট-চেকিং ওয়েবসাইট ডিএফআরএসি সামাজিক মাধ্যম এক্স-এর একটি পোস্টে বলছে, ভাইরাল স্ক্রিনশটের ব্যবহারকারীর নাম কাকারের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টের সাথে মেলে না।
জানা যায়, শরীরে বিষক্রিয়ার কারণে করাচির হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে দাউদ ইব্রাহিমকে। বিশেষ নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে হাসপাতালজুড়ে। আন্ডারওয়ার্ল্ড ডনের অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আসতেই পাকিস্তানজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবাও ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তবে সরকারিভাবে দাউদের অসুস্থতা নিয়ে কিছু জানানো হয়নি।
জানা যায়, গত কয়েকমাস ধরেই পাকিস্তানে বসবাসকারী বেশ কয়েকজন জঙ্গি নেতার মৃত্যু হয়েছে। ভারতবিরোধী বলেই পরিচিত ছিলেন তারা। এহেন পরিস্থিতিতে দাউদের অসুস্থতার খবরে তোলপাড় আন্তর্জাতিক মহল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত দু’দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন দাউদ। হাসপাতালের একটি ফ্লোর একেবারে খালি করে দেওয়া হয়েছে তার জন্য। চিকিৎসক ও পরিবারের একেবারে ঘনিষ্ঠরা ছাড়া কেউই দেখা করতে পারছেন না তার সাথে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিষ খাওয়ানো হয়েছে তাকে। তার শারীরিক অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক বলেই জানা গেছে। যদিও দাউদের পরিবার বা করাচির হাসপাতালের তরফে এই নিয়ে কিছুই বলা হয়নি।
উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে মুম্বই ধারাবাহিক বিস্ফোরণ মামলার অন্যতম হোতা দাউদ ইন্ডিয়ার নম্বর ওয়ান ওয়ান্টেড অপরাধী। পাকিস্তানের হাসপাতালে দাউদের ভর্তি হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসতেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি এর নেপথ্যে রয়েছে ‘র’-এর হাত? কারণ দেশটিতে গত দু’বছরে অজ্ঞাত পরিচয় আততায়ীর হাতে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ১২ জন জেহাদি, যাদের প্রত্যেকেই ছিল ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড লিস্টে।








