ভূমিকম্প হবার পর যে ছোট–বড় কম্পনগুলো ঘটে, সেগুলোকে আফটারশক বলা হয়। ভূমিকম্পের আগে যেসব ছোট কম্পন ঘটে, সেগুলোকে ফোরশক বলা হয়।
কোনো কম্পন ফোরশক নাকি আলাদা ভূমিকম্প, সেটা সাধারণত মূল ভূমিকম্প হওয়ার পরেই বোঝা যায়।
আজ রাজধানীসহ সারা দেশেই অনুভূত হয়েছে ভূমিকম্প। এরই মধ্যে ভূমিকম্পে ভবনের রেলিং ভেঙে পড়ে তিনজন, দেয়াল ধসে এক শিশু এবং নরসিংদীতে নির্মাণাধীন ভবনের ইট পড়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়। সারাদেশে ভবন হেলে পড়া, দেয়াল ধসে পড়া, ভবনের দেয়ালে ফাটলের মতো আরও নানা খবর পাওয়া যাচ্ছে।
আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানিয়েছেন, শুক্রবার সকালে আঘাত হানা ভূমিকম্পটি মধ্যম বা মডারেট মাত্রার। এর শক্তি খুব বেশি নয়, কিন্তু অনেক বেশি অনুভূত হয়। এ ভূমিকম্পে আপাতত আফটারশকের কোনো শঙ্কা নেই।
এই আবহাওয়াবিদ আরও জানান, মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে কিছু কিছু সময় আফটারশকের আশঙ্কা থাকে। তবে সবসময় এটি তীব্র হয় না।
আফটারশক কী?
‘মেনশক’ বা মূল কম্পনের পর আসে ‘আফটারশক’। একই জায়গায় একাধিকবার আফটারশক হয়। প্রকৃতি সব সময় সমতা বজায় রাখার চেষ্টা করে। ভূকম্পনের ফলে ওই ভারসাম্য ঠিক করার জন্য আফটারশক হয়। তাই মূল কম্পনের পর টেকটনিক প্লেটগুলো যখন আবার নিজের অবস্থানে ফিরে আসার চেষ্টা করে তখনই আফটারশকের সৃষ্টি হয়।
ভূবিজ্ঞানীদের মতে, কোনো বড় ভূমিকম্পের পর যে সব আফটারশক হয় সেগুলোর স্থায়িত্ব কয়েক ঘণ্টা, এমনকি কয়েক দিনও হতে পারে। এই আফটারশক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণকে আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে।
ফোরশক কী?
আফটারশকের কথা আমরা অনেকেই জানি। কিন্তু ‘ফোরশক’ও রয়েছে। কী এই ফোরশক? কোনো জায়গায় বড় ধরনের ভূমিকম্প হওয়ার আগে এই ফোরশক আসে। তবে বড় ভূমিকম্প না আসা পর্যন্ত এই ফোরশককে চিহ্নিত করা যায় না।
এর আগে চলতি বছরের ৫ মার্চ রাজধানীতে মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। রিখটার স্কেলে ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৬। তারও আগে ২৮ মে বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টা ২৪ মিনিটের দিকে ভারতের মণিপুর রাজ্যের মোইরাং শহরের কাছাকাছি এলাকায় আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ওই সময়ও ভূমিকম্পে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায় হালকা কম্পন অনুভূত হয়েছিল।
শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে আঘাত হানা ভূমিকম্পে বাংলাদেশের পাশাপাশি প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানেও কম্পন অনুভূত হয়। কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় এই কম্পন অনুভূত হয়। এছাড়াও সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ভূকম্পন কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে পাকিস্তানেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর কেন্দ্রস্থল ছিল ১৩৫ কিলোমিটার গভীরে।








