পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের শান্তি আলোচনা ২১ ঘণ্টা ধরে চলার পরও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি দেশগুলো। শনিবার (১১ এপ্রিল) দীর্ঘ বৈঠকের পর আলোচনা অমীমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ওয়াশিংটনের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, এটি ইরানের জন্য খারাপ খবর এবং তারা চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম প্রস্তাব দেওয়ার পর বৈঠক ত্যাগ করেছেন।
কেন ব্যর্থ হলো আলোচনা?
২১ ঘণ্টার বৈঠকের বিস্তারিত প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানালেও ভ্যান্স ইঙ্গিত দেন, মূল বিরোধের কেন্দ্র ছিল পারমাণবিক অস্ত্র ইস্যু। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান স্পষ্টভাবে প্রতিশ্রুতি দিক যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং এ ধরনের সক্ষমতা অর্জনের পথেও যাবে না। এটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রধান লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ভ্যান্স আরও বলেন, ইরানের পূর্বের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ পারমাণবিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এমন প্রতিশ্রুতি এখনও পাওয়া যায়নি। ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তারা পারমাণবিক বোমা তৈরির কোনো পরিকল্পনা করছে না। তবে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধসহ গত বছরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, আলোচনায় ইরান ২১ ঘণ্টা ধরে নিরবচ্ছিন্ন ও নিবিড়ভাবে অংশ নেয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অযৌক্তিক দাবি আলোচনার অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করে। তারা আরও জানায়, ইরানের পক্ষ থেকে নানা প্রস্তাব দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত সমঝোতা সম্ভব হয়নি।
ইরানের সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনায় পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে মতপার্থক্য ছিল।
ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় নমনীয় ও সমঝোতামূলক ছিল এবং সৎ উদ্দেশ্যে চুক্তি করতে এসেছিল। কিন্তু ইরান তাদের শর্ত মানতে রাজি হয়নি। আলোচনা ব্যর্থ হলে বিকল্প পরিকল্পনা কী এমন প্রশ্নে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, কোনো ‘প্ল্যান বি’ নেই।
তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে গেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাদের ওপর বড় ধরনের আঘাত হেনেছে।







