ভারতীয় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় জুটি বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাজস্থানের ঐতিহাসিক শহর উদয়পুরে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। তারকাখচিত এই বিয়ের আয়োজন কেবল গ্ল্যামারেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং দুই ভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য সংমিশ্রণই ছিল এর প্রধান আকর্ষণ।
জানা গেছে, বিয়েতে বিজয়ের তেলুগু আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি রাশমিকার পৈতৃক কোদাভা সংস্কৃতির বিশেষ রীতিও পালন করা হয়। বিশেষ করে তাদের ‘দ্বিতীয় অনুষ্ঠান’ হিসেবে আয়োজিত কোদাভা বিবাহরীতি নিয়ে ইতোমধ্যে ভক্ত ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
কোদাভা বিয়ে কী? কোদাভা বিবাহরীতি ভারতের কর্ণাটকের কুর্গ অঞ্চলের কোদাভা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য থেকে উদ্ভূত। এই সম্প্রদায় ঐতিহাসিকভাবে সামরিক ঐতিহ্য ও স্বাতন্ত্র্যপূর্ণ জীবনধারার জন্য পরিচিত।
মূলধারার বহু হিন্দু বিয়ের মতো দীর্ঘ বেদীয় মন্ত্রোচ্চারণ বা অগ্নিকে কেন্দ্র করে সাত পাক কোদাভা বিয়েতে মুখ্য নয়। বরং এখানে পারিবারিক আশীর্বাদ, গোত্রীয় ঐতিহ্য ও সম্প্রদায়ের সংযোগই বেশি গুরুত্ব পায়।
কোদাভা বিয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—এটি সাধারণত পুরোহিতনির্ভর নয়। পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যরাই অধিকাংশ আচার-অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। এখানে গুরুত্ব পায় পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও সম্মান, প্রতীকী রীতি ও আশীর্বাদ, পরিবার ও সম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রকাশ।
অন্যদিকে, প্রচলিত হিন্দু বিবাহে যেখানে অগ্নিসাক্ষী, সংস্কৃত মন্ত্র ও পুরোহিতের ভূমিকা মুখ্য, কোদাভা বিয়েতে তা তুলনামূলকভাবে সরল ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক।
বিজয়–রাশমিকার বিয়ে তাই কেবল দুই তারকার মিলন নয়, বরং দুই ভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সম্মিলন হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তেলুগু ঐতিহ্য ও কোদাভা রীতির সমন্বয়ে তাদের এই আয়োজন দক্ষিণ ভারতের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছে।








