ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীসমূহের পানি বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে এক বিবৃতিতে এই কথা জানানো হয়েছে।
বলা হয়েছে, রংপুর বিভাগের তিস্তা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে, অপরদিকে ধরলা ও দুধকুমার নদীসমূহের পানি সমতল স্থিতিশীল আছে এবং বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আবহাওয়া সংস্থাসমূহের তথ্যানুযায়ী, আগামী ২ দিন পর্যন্ত রংপুর বিভাগ ও তৎসংলগ্ন উজানে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের (২৮৯ মি.মি/২৪ ঘণ্টা) প্রবণতা রয়েছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীসমূহের পানি সমতল আগামী ২ দিন পর্যন্ত দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে এবং পরবর্তী ১ দিন পর্যন্ত নদীসমূহের পানি সমতল স্থিতিশীল থাকতে পারে। আগামী ২ দিন পর্যন্ত লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার তিস্তা নদীর পানি সমতল সতর্ক সীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং জেলাসমূহের সংশ্লিষ্ট চরাঞ্চল এবং কতিপয় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। অপরদিকে আগামী ৩ দিন পর্যন্ত কুড়িগ্রাম জেলার ধরলা ও দুধকুমার নদীসমূহের পানি সমতল বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।
চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফেনী নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল আছে, অপরদিকে মুহুরী, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে এবং বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ৩ দিন পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগ ও তৎসংলগ্ন উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের (৪৪-৮৮ মি.মি/২৪ ঘণ্টা) প্রবণতা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যার প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বিভাগের নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস পেতে পারে।
সিলেট বিভাগের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীসমূহের পানি সমতল স্থিতিশীল আছে এবং বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আবহাওয়া সংস্থাসমূহের তথ্যানুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সিলেট বিভাগ ও তৎসংলগ্ন উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের (৪৪-৮৮ মি.মি/২৪ ঘণ্টা) প্রবণতা রয়েছে। এর প্রেক্ষিতে আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সুরমা ও কুশিয়ারা নদীসমূহের পানি সমতল ধীর গতিতে বৃদ্ধি পেতে পারে, তবে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং পরবর্তী ২ দিনে নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস পেতে পারে।
রংপুর বিভাগের ব্রহ্মপুত্র নদ ও তার ভাটিতে যমুনা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল আছে এবং বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং পরবর্তী ৪ দিন পানি সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে।
রাজশাহী বিভাগের গঙ্গা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল আছে ও তার ভাটিতে পদ্মা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ৩ দিন পর্যন্ত গঙ্গা-পদ্মা নদীসমূহের পানি সমতল ধীর গতিতে হ্রাস পেতে পারে এবং তার পরবর্তী ২ দিনে পানি সমতল স্থিতিশীল থাকতে পারে।
বরিশাল ও খুলনা বিভাগের উপকূলীয়/জোয়ারভাটা প্রবণ নদীসমূহে স্বাভাবিক জোয়ার পরিলক্ষিত হচ্ছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া সংস্থার তথ্যানুযায়ী, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে গেছে এবং উপকূলীয় অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে এসেছে।







