আন্তর্জাতিক শূন্য বর্জ্য দিবসে ব্র্যাক ও বাংলাদেশ সাসটেইনেবিলিটি অ্যালায়েন্স (বিএসএ) এর উদ্যোগে রাজধানীতে ‘ওয়েস্টওয়াইজ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বর্জ্য থেকে উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের পণ্য প্রদর্শন করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক শূন্য বর্জ্য দিবস উপলক্ষে রোববার (৩১ মার্চ) ঢাকার ব্র্যাক সেন্টারে বাংলাদেশ সাসটেইনেবিলিটি অ্যালায়েন্স (বিএসএ) ও ব্র্যাক আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউডিপি) যৌথভাবে ‘ওয়েস্টওয়াইজ’ শীর্ষক ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের ঊর্ধ্বতন পরিচালক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান বলেন, ব্র্যাক রিসাইকেল হ্যান্ডমেইড পেপার ও ব্র্যাক নার্সারি এন্টারপ্রাইজ শূন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। বর্জ্যকে আমরা মূল্যবান সম্পদে রূপান্তর করছি। ইতিমধ্যে আমরা ৬৫ মেট্রিকটন বর্জ্য কাগজ পুনর্ব্যবহার করেছি এবং ১৫ লাখের মতো পণ্য তৈরি করেছি। অন্যদিকে, খাদ্যবর্জ্যকে জৈব সারে রূপান্তরে ব্র্যাক নার্সারির উদ্ভাবনী উদ্যোগ সবুজ পৃথিবী ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে আমাদের প্রতিশ্রুতির সাক্ষ্য বহন করে।
শূন্য বর্জ্য উদ্যোগ সম্প্রসারণে কাজ করা প্রাণ-আরএফএল-এর সিইও আহসান খান চৌধুরী বলেন, কোন পণ্য পুনরায় ব্যবহার, রিসাইকেল ও বর্জ্যের পরিমাণ কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শূন্য বর্জ্য উদ্যোগের বাস্তবায়ন সম্ভব। নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে প্যাকেজিং খাতে প্লাস্টিকের পরিমাণ কমিয়ে আনা, ফার্নিচার কারখানার কাঠের গুঁড়া ব্যবহার করে দরজা তৈরি এবং প্লাস্টিক বর্জ্য রিসাইকেল করে ফুলের টব, ওয়েস্ট বিন ও ডাস্টপ্যানের মতো পণ্য তৈরি আমাদের প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহার প্রচেষ্টার কয়েকটি উদাহরণ।
ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল ঢাকা তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে খুব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে থাকে উল্লেখ করে হোটেলটির মহাব্যবস্থাপক অশ্বানি নায়ার বলেন, শূন্য বর্জ্যের লক্ষ্য অর্জনে আমাদের ছোটখাট প্রতিটি উদ্যোগেরই পৃথিবীকে রক্ষা করে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ক্ষমতা রয়েছে। আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ পৃথিবীর দিকে। হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রিতে পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম পরিচালনায় দৃষ্টান্ত তৈরির প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা।
ব্র্যাক সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘ওয়েস্টওয়াইজ’ মেলায় চক্রাকার অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রয়াসে বর্জ্য থেকে বিভিন্ন পণ্য তৈরির উদ্যোগ প্রদর্শন করা হয়। রিসাইকলিং নিয়ে কাজ করে এমন কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোগ অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ছিল রিড্রেস রিসাইকেল, আরবাব গ্রুপ, ব্র্যাক রিসাইকেল হ্যান্ডমেড পেপার, ব্র্যাক নার্সারি এন্টারপ্রাইজ, পিসিস কর্পোরেশন, লামাটি ও যত্নের দোকান। এই উদ্যোগগুলো কাপড়ের বর্জ্য, খাদ্য বর্জ্য, কাগজের বর্জ্য এবং প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ে নিরন্তর কাজ করছে।

মানবসভ্যতার জন্য বর্জ্য একটি উদ্বেগজনক বিষয়, তবে বিষয়টি প্রায়শই উপেক্ষিত। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছর ৩০ মার্চকে ‘আন্তর্জাতিক শূন্য বর্জ্য দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে জাতিসংঘ। শূন্য বর্জ্য হলো এমন একটি ধারণা, যার লক্ষ্য পণ্য উৎপাদন ও ব্যবহারে দায়িত্বশীলতাকে উৎসাহিত করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে বর্জ্য উৎপাদনের পরিমাণ কমিয়ে আনা।
উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর প্রায় ২ দশমিক ২৪ বিলিয়ন টন মিউনিসিপ্যাল সলিড ওয়েস্ট (জনসাধারণের ফেলা দৈনন্দিন বর্জ্য) উৎপন্ন হয়। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ বার্ষিক বর্জ্যের পরিমাণ হতে পারে ৩ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন টন। ক্রমবর্ধমান এসব বর্জ্য জনস্বাস্থ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনকে প্রভাবিত করায় আরও বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিএসএ-র সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও বর্জ্য হ্রাস করার ব্যাপারে তাদের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ব্যক্তি এবং সাংগঠনিক পর্যায়ে বর্জ্য হ্রাস এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুনত্ব আনার বিষয়ে গুরুতারোপ করা জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।








