যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারী অভিবাসীদের স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে উৎসাহ দিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস)। এ কর্মসূচির আওতায় অংশগ্রহণকারীদের বিনামূল্যে নিজ দেশে ফেরার ভ্রমণ সুবিধা এবং অতিরিক্ত ২ হাজার ৬০০ ডলার পর্যন্ত বোনাস দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এই তথ্য জানিয়েছে।
ডিএইচএস জানায়, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ব্যক্তিরা চাইলে এই কর্মসূচির মাধ্যমে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারবেন বা অন্য কোনো বৈধ অবস্থানের দেশে স্থানান্তরিত হতে পারবেন। এ ছাড়া, ডিপোর্টেশন আদেশের পরও দেশত্যাগ না করার কারণে সাধারণত যে জরিমানা আরোপ করা হয়, তার কিছু অংশ মওকুফ করা হবে।
প্রচার প্রচারণার অংশ হিসেবে সংস্থাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাজমহল-এর একটি ছবি ব্যবহার করে ভারতীয়দের উদ্দেশে বার্তা দেয়। সেখানে বলা হয়, নতুনভাবে শুরু করতে দেশে ফিরে যান! সিবিপি হোম অ্যাপ ব্যবহার করে স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ করলে পাবেন ফ্রি ফ্লাইট ও ২ হাজার ৬০০ ডলারের বোনাস।
তবে এই পোস্ট ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এক ব্যবহারকারী প্রশ্ন তোলেন, যারা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে এসে ভালোভাবে জীবনযাপন করছেন, তারা কেন মাত্র ২ হাজার ৬০০ ডলারের জন্য ফিরে যেতে চাইবেন?
আরেকজন মার্কিন নাগরিক দাবি করেন, ভারতীয়রাই আমাদের দেশে তৃতীয় বৃহত্তম অবৈধ অভিবাসী গোষ্ঠী। এ মন্তব্যের জবাবে একজন ভারতীয় ব্যবহারকারী লেখেন, ভারতীয়দের নিয়ে বিদ্রূপ বন্ধ করুন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এ বিষয়ে ডিএইচএস সেক্রেটারি ক্রিস্টি নয়েম বলেন, যারা অবৈধভাবে অবস্থান করছেন, তারা সিবিপি হোম অ্যাপ ব্যবহার করে নিজেরাই দেশত্যাগের সিদ্ধান্ত নিন এবং আর্থিক সহায়তা নিন।
তিনি সতর্ক করে দেন, এটি না করলে জরিমানা, গ্রেপ্তার, বহিষ্কার এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে।
যেভাবে কাজ করবে কর্মসূচি, অংশগ্রহণকারীদের প্রথমে সিবিপি হোম মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে, কর্তৃপক্ষ যাচাই করবে তারা , অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত কিনা এবং যোগ্য কিনা, অনুমোদনের পর তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা সাময়িকভাবে শিথিল করা হবে, ব্যক্তিগত কাজ শেষ করা, সন্তানের পড়াশোনা সম্পন্ন করা ইত্যাদির জন্য সময় দেওয়া হবে এবং এরপর তারা নিয়মতান্ত্রিক ও আইনি উপায়ে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের কয়েক মাস পর ডিএইচএস প্রজেক্ট হোমকামিং নামে এই কর্মসূচি চালু করে। এর লক্ষ্য হলো, অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তার ও জোরপূর্বক বহিষ্কারের পরিবর্তে স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে উৎসাহিত করা।








