দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ বিজয় থালাপতির দীর্ঘ ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনে ফাটল ধরেছে। শোনা যাচ্ছে, থালাপতির বিরুদ্ধে গুরুতর কিছু অভিযোগ এনেছেন তার স্ত্রী সংগীতা স্বর্ণালিঙ্গম, করেছেন বিচ্ছেদের আবেদন।
বিচ্ছেদের আবেদনে সংগীতা দাবি করেছেন, এক অভিনেত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছেন বিজয়। বিষয়টি তিনি ২০২১ সালে জানতে পারেন, এখনো সেই সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছেন বিজয়।
১৯৯৯ সালে বিয়ে করেন বিজয় ও সংগীতা। দুজনের সংসারে জেসন সঞ্জয় ও দিব্যা শাশা নামে দুই সন্তান রয়েছে। সংগীতা স্বর্ণালিঙ্গম দাবি করেন, সেই অভিনেত্রীর সঙ্গে সম্পর্কে ইতি টানার আশ্বাস দিয়েছিলেন বিজয়। তবে তা করেননি। ওই অভিনেত্রীর সঙ্গে বিদেশ সফর করেন বিজয়। পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমেও দুজনের ছবি প্রকাশ করেন তিনি।
বিষয়টি নিয়ে দুই সন্তান ও তিনি অপমানিত বোধ করছেন বলে জানিয়েছেন সংগীতা। সংগীতার অভিযোগ, তাকে সামাজিক ও পেশাগত জীবন থেকে দূরে রাখা হয়েছে, এমনকি আর্থিক ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতাতেও হস্তক্ষেপ করেন বিজয়।
বিজয়ের সঙ্গে সম্পর্কটি শুধু কাগজে-কলমে আছে। স্ত্রীর আবেদনটি আদালতে বিচারাধীন। এর মধ্যে অভিনয় ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দেন থালাপতি বিজয়। তামিলাগা ভেটরি কাজাগম (টিভিকে) নামে একটি দল গঠন করেন তিনি।
কে এই সংগীতা? সংগীতা স্বর্ণালিঙ্গম শ্রীলঙ্কার এক অতি ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান। তার বাবা ছিলেন লঙ্কার বিখ্যাত শিল্পপতি। লন্ডনে বড় হওয়া সংগীতা থালাপতি বিজয়ের অন্ধ ভক্ত ছিলেন। ১৯৯৬ সালে একটি ছবির শুটিং সেটে বিজয়ের সঙ্গে দেখা করতে আসেন তিনি। সেই আলাপ থেকেই শুরু হয় প্রেম এবং ১৯৯৯ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের দুই সন্তান ছেলে সঞ্জয় এবং মেয়ে দিব্যা।
৪০০ কোটির উত্তরাধিকারিণী সংগীতা। তাকে কেবল ‘তারকা-পত্নী’ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। লন্ডনে তার বাবার বিশাল ব্যবসা এবং পারিবারিক সম্পত্তি মিলিয়ে তিনি নিজে প্রায় ৪০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের মালিক। থালাপতি বিজয়ের বিশাল সাফল্যের নেপথ্যে সংগীতার বুদ্ধিদীপ্ত পরামর্শ এবং তার পারিবারিক আভিজাত্যের এক বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হয়।
দক্ষিণী মেগাস্টার থালাপতি বিজয় যতটা প্রচারের আলোয় থাকেন, তার স্ত্রী সংগীতা স্বর্ণালিঙ্গম ঠিক ততটাই আড়ালে থাকতে পছন্দ করেন। বিজয় ও সংগীতার প্রেমের গল্পটি ছিল অনেকটা সিনেমার মতোই।








