ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একটি বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে তাদের মার্কিন হেফাজতে নেওয়া হয়। আটকের পর নিউ ইয়র্কে মাদুরোকে হাতকড়া পরিয়ে হাঁটিয়ে নেওয়ার একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে।
রোববার ৪ জানুয়ারি এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, অভিযানের সময় মাদুরো ও সিলিয়া ফ্লোরেস কারাকাসের উচ্চ-নিরাপত্তা সামরিক কম্পাউন্ড ফুয়ের্তে তিউনায় নিজ বাসভবনে অবস্থান করছিলেন। অভিযানের পর তাদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, নিউইয়র্কে অবস্থিত মার্কিন মাদক প্রয়োগকারী সংস্থা ডিইএর সদর দপ্তরের ভেতরে কর্মকর্তাদের পাহারায় হাঁটছেন নিকোলাস মাদুরো। ভিডিওতে ৬৩ বছর বয়সী মাদুরোকে হাতকড়া পরা অবস্থায় একটি করিডোর দিয়ে হেঁটে যেতে দেখা যায়। এ সময় তাকে উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ‘শুভ রাত্রি’ ও ‘শুভ নববর্ষ’ বলতে শোনা যায়।
আরেকটি ভিডিওতে মাদুরোর যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অবতরণের দৃশ্য দেখা গেছে। মার্কিন সূত্র জানায়, প্রথমে তাকে একটি সামরিক ঘাঁটিতে নেওয়া হয়, পরে নিউইয়র্ক সিটিতে স্থানান্তর করা হয়।
মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘মাদক-সন্ত্রাসবাদ’, যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ কোকেন পাচার এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিইএ অফিস থেকে মাদুরোকে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে অবস্থিত মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হয়।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, মাদুরোকে আটক করতে ‘অপারেশন অ্যাবসলিউট রেজলভ’ নামের একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়, যাতে অভিজাত ডেল্টা ফোর্সসহ মার্কিন সেনারা অংশ নেন। অভিযানে প্রায় ৩০ মিনিট সময় লাগে এবং এতে কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হননি বলে জানানো হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিক বক্তব্যে বলেছেন, ভেনেজুয়েলার মাদক কার্টেল ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে যুক্তরাষ্ট্র বৈধ বলে স্বীকৃতি দেয় না।
তবে নিকোলাস মাদুরো বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার বক্তব্য, ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল সম্পদের কারণেই যুক্তরাষ্ট্র তাকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করছে।








