মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে তেলের দাম বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্র এর থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে ইরান অভিযোগ করেছে, পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন বন্ধের একটি প্রস্তাব তারা দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে ওয়াশিংটন।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার (১৩ মার্চ) এক বিবৃতিতে জানান, ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া আলোচনায় তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন বন্ধের একটি পরিকল্পনা তুলে ধরেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এর ‘প্রযুক্তিগত বিষয়’ বুঝতে না পারায় সেই প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি।
তিনি বলেন, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র–ইরান তৃতীয় দফা আলোচনায় তেহরান আশ্বস্ত করতে চেয়েছিল যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। কিন্তু সেই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে পরে ইসরায়েলের সহায়তায় ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়।
সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি লিখেছেন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রস্তাবটি বাতিল করা হয়েছে, কারণ মার্কিন প্রতিনিধিরা প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো বুঝতে পারেননি। তিনি আরও বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধি বা শুল্ক থেকে সাধারণ আমেরিকানরা লাভবান হবে না; বরং এতে করপোরেশনগুলো লাভবান হবে এবং সাধারণ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
জেনেভা বৈঠকের পর বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা ভেঙে ফেলা এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের দাবি করেছিল। তবে তেহরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি শূন্যে নামাতে অস্বীকৃতি জানায়। ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি কেবল জ্বালানি উৎপাদনের জন্য এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা নেই।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, বিশ্বে সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদক হওয়ায় তেলের দাম বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রও আর্থিকভাবে লাভবান হবে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদক। তাই তেলের দাম বাড়লে আমরা অনেক অর্থ উপার্জন করি। তবে তার প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একটি অশুভ সাম্রাজ্য ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র না পায় এবং মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বকে ধ্বংসের পথে না ঠেলে দেয়।
গত মাসে স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমে প্রতি গ্যালন ২ দশমিক ৩০ ডলারে নেমে আসার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এরপর তা ৫০ শতাংশের বেশি বেড়ে গড়ে ৩ দশমিক ৬০ ডলার হয়েছে বলে জানিয়েছে আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন।
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম বৃদ্ধি ও ইরান যুদ্ধের প্রভাব ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক অবস্থানকে কঠিন করে তুলতে পারে, বিশেষ করে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে।
বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান শ্যাক্স সতর্ক করে বলেছে, তেলের দাম বাড়তে থাকলে বছরের শেষে মূল্যস্ফীতি বাড়বে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমবে এবং বেকারত্বের হারও বৃদ্ধি পেতে পারে।
সাধারণত প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। তবে বর্তমান সংঘাতের কারণে অনেক তেলবাহী জাহাজ এই পথ এড়িয়ে চলছে। অনিশ্চয়তার মধ্যে বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০০ ডলারে পৌঁছেছে।








