যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আবারও শুরু হয়েছে ‘নো কিংস’ শীর্ষক বিক্ষোভ। শনিবার দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আয়োজিত তৃতীয় দফার এই আন্দোলনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে লাখো মানুষ।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ৫০টি অঙ্গরাজ্যজুড়ে ৩ হাজার ২০০টির বেশি কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করছেন, ট্রাম্প প্রশাসন এক ধরনের কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
দেশটির বিভিন্ন বড় শহর নিউ ইয়র্ক সিটি, ওয়াশিংটন ডিসি এবং লস এঞ্জেলেস-এ ব্যাপক সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে বিকেলজুড়ে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। বিক্ষোভকারীরা লিঙ্কন মেমোরিয়াল-এর সিঁড়ি এবং ন্যাশনাল মল এলাকা দখল করে অবস্থান নেয়।
আয়োজকরা জানান, ইরান যুদ্ধ, ফেডারেল অভিবাসন নীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদেই এই আন্দোলন। তাদের ভাষ্য, ট্রাম্প আমাদের ওপর স্বৈরশাসকের মতো শাসন করতে চান। কিন্তু এটি আমেরিকা এখানে ক্ষমতা জনগণের, কোনো ‘রাজা’ বা তার ধনী সহযোগীদের নয়।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র এই বিক্ষোভকে ‘ট্রাম্প ডিরেঞ্জমেন্ট থেরাপি সেশন’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং দাবি করেছেন, এসব কর্মসূচি নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ নেই। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তার প্রতিকৃতি বহন করে তাদের অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
মিনেসোটায় অনুষ্ঠিত বড় একটি সমাবেশে গত জানুয়ারিতে ফেডারেল অভিবাসন অভিযানে নিহত দুই মার্কিন নাগরিকের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সেন্ট পল শহরের স্টেট ক্যাপিটলের সামনে হাজারো মানুষ জড়ো হয়। সেখানে সংগীতশিল্পী ব্রুস স্প্রিংস্টিন ‘স্ট্রিটস অফ মিনিয়াপোলিস’ শিরোনামের একটি গান পরিবেশন করেন।
এদিকে টাইমস স্কোয়ারেও হাজারো মানুষ জড়ো হয়ে মিছিল করে। জনসমাগম সামাল দিতে পুলিশকে ব্যস্ত সড়কগুলো বন্ধ রাখতে হয়। এর আগে অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত ‘নো কিংস’ বিক্ষোভে দেশজুড়ে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিল বলে আয়োজকরা দাবি করেন। বিক্ষোভের সময় কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হলেও আয়োজকরা কর্মসূচিগুলো শান্তিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পুনরায় হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর ট্রাম্প নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বাড়িয়েছেন এবং বিভিন্ন শহরে রাজ্য গভর্নরদের আপত্তি সত্ত্বেও ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছেন। এছাড়া রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ট্রাম্প বলেছেন, সংকটময় পরিস্থিতি থেকে দেশকে পুনর্গঠনের জন্যই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমাকে ‘রাজা’ বলা হচ্ছে, কিন্তু আমি রাজা নই।
সমালোচকদের দাবি, প্রশাসনের কিছু পদক্ষেপ সংবিধানবিরোধী এবং মার্কিন গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। শুধু বড় শহর নয়, ছোট শহর ও জনপদেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বোস্টন, ন্যাশভিল এবং হিউস্টনেও সমাবেশ হয়েছে। পাশাপাশি শেলবিভিল ও হাওয়েল-এর মতো ছোট শহরেও মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।
বিদেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকরাও বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। প্যারিস, লন্ডন এবং লিসবন-এ সমাবেশ করে তারা ট্রাম্পকে ‘ফ্যাসিস্ট’ ও ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা দিয়ে অভিশংসন ও পদত্যাগের দাবি জানান।








