এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
২০২৪ সালের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তহবিল সংগ্রহ এবং ব্যয়ে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন নির্বাচনী ব্যবস্থায় বিভিন্ন কমিটি, ব্যক্তিগত দাতা এবং সংস্থার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রার্থীদের তহবিলে পৌঁছায়। এই তহবিল প্রার্থীরা প্রচারণায় ব্যবহার করেন, যা মূলত বিজ্ঞাপন, মিটিং, কর্মী নিয়োগ এবং ভোটারদের সচেতন করতে ব্যয় করা হয়।
তহবিলের উৎস এবং সংগ্রহ পদ্ধতি
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী তহবিল প্রধানত ব্যক্তি এবং বিভিন্ন সংগঠনের কাছ থেকে আসে। ব্যক্তিগত অনুদানদাতারা সাধারণত ২০০ মার্কিন ডলার বা তার কম অনুদান দেন, যা প্রার্থীদের মোট সংগ্রহের বড় অংশ গঠন করে। তবে, বড় দাতা এবং পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (প্যাক) থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তহবিল আসে। প্যাক এবং সুপার-প্যাকরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রার্থীর প্রচারণা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য ব্যয় করতে পারেন এবং তাদের ব্যয়ের কোন সীমাবদ্ধতা নেই।
তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে, রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থীদের প্রতি জনগণের আর্থিক সমর্থন দৃঢ়ভাবে দেখা যাচ্ছে। নির্বাচনী তহবিলের বেশিরভাগই মিডিয়া কভারেজ, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন, প্রচারাভিযান সম্পর্কিত ইভেন্ট এবং প্রশাসনিক কাজে ব্যয় করা হয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কমলা হ্যারিসের তহবিল সংগ্রহ
২০২৪ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কমলা হ্যারিসের তহবিল সংগ্রহের ক্ষেত্রে ভিন্নতা দেখা গেছে। ট্রাম্প তার প্রচারণার শুরু থেকে মামলার কারণে প্রচুর দাতার সহানুভূতি এবং অর্থ পেয়েছেন। তার বিভিন্ন কমিটি এবং সুপার প্যাক এর মাধ্যমে প্রচুর তহবিল সংগ্রহ হয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যায়, ট্রাম্পের প্রচারাভিযান এবং সহায়ক কমিটিগুলো প্রায় ১২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছে। যেখানে ট্রাম্পের মূল ডিজিটাল ফান্ডরেইজিং কমিটি প্রায় ১৩৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছে এবং ছোট দাতারাই এর একটি বড় অংশ।
এদিকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিস ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯০৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে জো বাইডেনের প্রচারের জন্য দেয়া তহবিলও রয়েছে। অবশ্য জুলাই মাসে বাইডেন নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার পরে ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই বড় আকারে তহবিল সংগ্রহ শুরু করেন হ্যারিস। এর বাইরে বাইরের কিছু গ্রুপ হ্যারিসকে সমর্থন করে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩৫৯ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছে। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে সোয়া এক বিলিয়ন ডলার কমলা হ্যারিসের প্রচারাভিযানের তহবিলে যুক্ত হয়েছে। মোট সংগ্রহের ৫৬ শতাংশই এসেছে বড় বড় দান থেকে। বাকি ৪৪ শতাংশ সংগ্রহ হয়েছে ২০০ ডলারের নীচে ব্যক্তিগত পর্যায়ের ছোট ছোট অবদানের মাধ্যমে।
কীভাবে তহবিল খরচ হয়
তহবিলের ব্যয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন, প্রচারাভিযান পরিচালনা, কর্মী নিয়োগ এবং যোগাযোগের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর কাজে ব্যবহার করা হয়। ট্রাম্পের প্রচারণায় আইনি খরচ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ব্যয় করা হয়েছে। অন্যদিকে, বাইডেনের প্রচারণা ডিজিটাল মার্কেটিং এবং মিডিয়া প্রচারণায় বেশি খরচ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন নির্বাচনে তহবিল সংগ্রহ এবং খরচের এই অবাধ ব্যবস্থা প্রার্থীদের প্রতি সাধারণ মানুষের প্রভাবকে অনেকাংশে প্রভাবিত করে। ম্যাসাচুসেটস ইউনিভার্সিটির রাজনৈতিক বিজ্ঞানী রে লা রাজা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যয়ের ওপর কোন সীমা নেই, যা সাধারণ মানুষের মতামত এবং নির্বাচন ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৪ সালের এই বিপুল ব্যয় এবং তহবিল সংগ্রহের প্রতিযোগিতা দেখায় যে, আগামী নির্বাচনে প্রচারণার বিভিন্ন মাধ্যম ও কৌশলকে আরও আধুনিক এবং প্রযুক্তি-নির্ভর করা হবে।
মোটের ওপর, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে তহবিল সংগ্রহ ও ব্যয়ের বিশাল অংক প্রার্থীদের রাজনৈতিক প্রচারণাকে আরও শক্তিশালী এবং প্রভাবশালী করছে, যা নির্বাচনের ফলাফলের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।







