ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের চতুর্থ দিনে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে এবং যত দ্রুত সম্ভব উপসাগরীয় জলপথে চলাচলকারী তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকারে নিরাপত্তা দিতে মার্কিন নৌবাহিনী মোতায়েন করা হতে পারে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর ক্ষেত্রে তিনি ইসরায়েলকে চাপ প্রয়োগ করে থাকতে পারেন। তার এই মন্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
পরিবহন জাহাজ ও সংরক্ষণ সক্ষমতার ঘাটতির কারণে ইরাকের অপরিশোধিত তেল উৎপাদন ভেঙে পড়ার মুখে। দেশটির বৃহত্তম তেলক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রুমাইলা ও ওয়েস্ট কুর্না-২ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে সংঘাতের প্রভাব পড়েছে আর্থিক বাজারেও। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে দিনশেষে সূচকগুলো নিম্নমুখী ছিল। এসএন্ডপি ৫০০ এবং নাসডাক কম্পোজিট, উভয় সূচকই প্রায় ১ শতাংশ করে কমে লেনদেন শেষ করেছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরব, কুয়েত ও বৈরুতে তাদের দূতাবাস সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত নাগরিকদের অঞ্চল ত্যাগের আহ্বান জানায়।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী লেবাননে অবস্থানরত ইরানি সরকারের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পর তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। চলমান এই সংঘাত আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

