মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের হাজারো সেনা মোতায়েন রয়েছে বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে, যেখান থেকে গত কয়েক দশকে ওয়াশিংটন একাধিক সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে।
সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
সম্প্রতি ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে এক বিমান হামলা চালায়। এই সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও এই সংঘাতে জোড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে।
যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অংশগ্রহণের সম্ভাবনা তৈরি হলে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকি বেড়ে যাবে।
এর আগে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ চলাকালে ইরানপন্থী বাহিনীগুলো ইতিমধ্যেই মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা ঘাঁটির অবস্থান
বাহরাইন
উপসাগরীয় এই ছোট্ট রাষ্ট্রটিতে ‘ন্যাভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি বাহরাইন’ নামে একটি ঘাঁটি রয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহর ও নৌবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের সদরদপ্তর অবস্থিত।
১৯৪৮ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র বাহরাইন ঘাঁটি ব্যবহার করছে। বর্তমানে কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ এবং কোস্ট গার্ডের দ্রুতগামী জাহাজ বাহরাইনেই মোতায়েন রয়েছে।
ইরাক
ইরাকের আল-আসাদ ও আরবিল বিমানঘাঁটিসহ বেশ কিছু ঘাঁটিতে মার্কিন সেনার অবস্থান করছে। ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী জোটের অংশ হিসেবে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা বর্তমানে সেখানে রয়েছে।
তেহরানের মিত্র হওয়া সত্ত্বেও বাগদাদ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি যৌথ সমঝোতার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা চলছে।
কুয়েত
ক্যাম্প আরিফজানসহ কুয়েতজুড়ে রয়েছে একাধিক মার্কিন ঘাঁটি। এখানেই রয়েছে সেন্টকমের অগ্রবর্তী সদরদপ্তর।
এছাড়া আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি থেকে চালানো হয় আঞ্চলিক সামরিক সরবরাহ, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন মোতায়েন রয়েছে।
কাতার
আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে সেন্টকমের অগ্রবর্তী ইউনিটসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও বিশেষ বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
ঘাঁটিটিতে ৩৭৯তম এয়ার এক্সপিডিশনারি উইংসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা, নজরদারি, আকাশ থেকে জ্বালানি সরবরাহ ও মেডিকেল অপসারণ ইউনিট কাজ করছে।
সিরিয়া
সিরিয়ায় আইএসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র সেখানে বেশ কিছু ঘাঁটি পরিচালনা করে আসছে।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে পেন্টাগন জানায়, ঘাঁটিগুলোকে একত্রিকরণের অংশ হিসেবে সিরিয়ায় সেনা সংখ্যা কমিয়ে ১ হাজারের নিচে নামিয়ে আনা হবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত
আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৮০তম এয়ার এক্সপিডিশনারি উইং। ১০টি স্কোয়াড্রনের সমন্বয়ে গঠিত এই ইউনিটে ড্রোনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই ঘাঁটি থেকে যুদ্ধবিমান পরিচালনার পাশাপাশি আঞ্চলিক আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের এমন সেনা মোতায়েন ও সামরিক উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার আরও বাড়াচ্ছে। ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনার বিস্তার ঘটলে, পুরো অঞ্চল জুড়ে মার্কিন বাহিনীর ওপর বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা থাকছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।








