মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ ও আঞ্চলিক অস্থিরতা কমাতে ওয়াশিংটন এখন আলোচনার পথ জোরদার করছে।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে এই প্রস্তাব তেহরানে পৌঁছানো হয়েছে। তবে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রস্তাবটিকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে কিংবা আলোচনার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। একইভাবে, এই উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েল কতটা সম্মত, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ করা না হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে নৌ-নিরাপত্তার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মূলত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এর পাল্টা জবাবে ইরানও ইসরায়েল ও আশপাশের অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে। এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে গড়ালেও দ্রুত সমাপ্তির কোনো লক্ষণ নেই। এ অবস্থায় হোয়াইট হাউস কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ালেও সামরিক অভিযান চালু রয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, নির্ধারিত সামরিক লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ অব্যাহত থাকবে।
এদিকে এই সংকটে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে পাকিস্তান। দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনির যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষায় সক্রিয় রয়েছেন। তিনি ইতোমধ্যে ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আলোচনার জন্য পাকিস্তানকে সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে প্রস্তাব দিয়েছেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফও চলমান শান্তি উদ্যোগে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন এবং প্রয়োজনে আলোচনার আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।








