মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধ এক মাসের কাছাকাছি পৌঁছাতেই ইউরোপজুড়ে অর্থনৈতিক চাপের আশঙ্কা বাড়ছে। জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্তোরিয়ুস এই যুদ্ধকে “অর্থনৈতিক বিপর্যয়কর” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে পিস্তোরিয়ুস বলেন, “এই যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বিপর্যয়কর। এর প্রভাব ইতোমধ্যেই স্পষ্ট।” তিনি আরও জানান, যুদ্ধবিরতি হলে শান্তি রক্ষায় প্রয়োজনীয় যে কোনো পদক্ষেপ নিতে জার্মানি প্রস্তুত।
প্রবৃদ্ধি কমার সতর্কবার্তা
অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি) জানিয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতি যে প্রবৃদ্ধির পথে ছিল, তা এখন ব্যাহত হচ্ছে। ২০২৬ সালে যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ০.৭ শতাংশ করা হয়েছে। ইউরোজোনের প্রবৃদ্ধিও কমেছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধিতে সামান্য উন্নতির আভাস দেওয়া হয়েছে।
ওইসিডি বলছে, উচ্চ জ্বালানি মূল্য এবং আর্থিক নীতির কঠোরতা যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিকে চাপে রাখবে।
এটি আমাদের যুদ্ধ নয়: জার্মানি
জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, এই যুদ্ধ তাদের নয় এবং এতে জড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই।
তিনি বলেন, “আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই এই যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এটি আমাদের যুদ্ধ নয়, তাই আমরা এতে জড়িয়ে পড়তে চাই না।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই যুদ্ধে কোনো স্পষ্ট কৌশল বা লক্ষ্য নেই এবং সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো এর কোনো নির্দিষ্ট সমাপ্তি পরিকল্পনাও নেই।
জ্বালানি সংকট বাড়ছে
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
এদিকে, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন।
যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই পরিস্থিতিকে ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের চেয়েও “খারাপ” বলে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, “এটি আগের যেকোনো পরিস্থিতির চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ, যার প্রভাব আরও গভীর ও বিস্তৃত হতে পারে।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ইউরোপসহ বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়বে।








