আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সৌদি আরব, মিশর ও তুরস্কের কূটনীতিকদের বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অর্থবহ আলোচনার আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
দেশটি জানিয়েছে, চলমান যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল–ইরান সংঘাতের অবসান ঘটাতে তারা দুই পক্ষের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম দিতে প্রস্তুত।
ইসলামাবাদে দুই দিনের ওই বৈঠক শুরু হয় রোববার (২৯ মার্চ)। এতে নেতৃত্ব দেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার। বৈঠক শেষে তিনি জানান, সংঘাতের দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংলাপ আয়োজনের বিষয়টিও উঠে এসেছে।
তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা মত দিয়েছেন যে, সংঘাত প্রতিরোধ এবং আঞ্চলিক শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার একমাত্র কার্যকর পথ হলো সংলাপ ও কূটনীতি।
এক ভিডিও বার্তায় ইশহাক দার আরও বলেন, আগামী দিনে ইসলামাবাদে দুই পক্ষের মধ্যে একটি অর্থবহ আলোচনা আয়োজন ও সহায়তা করতে পারা পাকিস্তানের জন্য গর্বের বিষয় হবে, যাতে চলমান সংঘাতের একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী সমাধান সম্ভব হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনায় অংশ নিতে সম্মত হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রোববার এক বিবৃতিতে মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে চলমান সংঘাতের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সামরিক উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক নৌপথ, সরবরাহ শৃঙ্খল, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জ্বালানি খাতে কী ধরনের প্রভাব পড়ছে সে বিষয়েও মূল্যায়ন বিনিময় করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার (২৮ মার্চ) শেহবাজ শরীফ জানান, তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দীর্ঘ ফোনালাপে পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
আল জাজিরার সাংবাদিক কামাল হায়দার ইসলামাবাদ থেকে জানান, পাকিস্তান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান–প্রদানেও ভূমিকা রাখছে।
তিনি বলেন, ইসলামাবাদের এই উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সূচনা, যেখানে সংঘাত নিরসনের একমাত্র কার্যকর পথ হিসেবে দেখা হচ্ছে সংলাপ ও কূটনীতিকে।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, তিনি পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন এবং সংঘাত বন্ধে সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখছে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও পাকিস্তানের নেতৃত্বের ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
জার্মানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়েডফুল জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সরাসরি বৈঠক হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।
অন্যদিকে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সম্প্রতি ইসরায়েলে নতুন হামলা চালিয়েছে, যা চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত সামরিক উপস্থিতিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।








