ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহুল আলোচিত পারমাণবিক আলোচনা শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ওমানের রাজধানী মাস্কাটে অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এ তথ্য জানিয়েছেন।
বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, আলোচনা শুক্রবার সকাল ১০টায় মাস্কাটে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। আলোচনার প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতির জন্য তিনি ওমান সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
এর আগে আলোচনার বিন্যাস ও স্থান নিয়ে মতবিরোধের কারণে বৈঠকটি অনিশ্চয়তায় পড়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল। তবে তেহরানের ঘোষণার মাধ্যমে সেই অনিশ্চয়তার অবসান হলো।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান এরই মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘ন্যায্য ও ন্যায়সঙ্গত’ আলোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ওয়াশিংটনও নিশ্চিত করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তুরস্কের পরিবর্তে ওমানে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেবে।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র আল-জাজিরাকে জানায়, কাতার, তুরস্ক ও মিশরের মধ্যস্থতাকারীরা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাবিত কাঠামো উপস্থাপন করেছেন। এতে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ এবং আঞ্চলিক মিত্রদের কাছে অস্ত্র সরবরাহ কমানোর বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সূত্রগুলোর একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আলোচনার বিষয়গুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল।
এই আলোচনা এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে সহিংসতার পর যুক্তরাষ্ট্র আরব সাগরে সেনা মোতায়েন করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে নেওয়া এই পদক্ষেপকে ঘিরে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বেড়েছে এবং সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ওয়াশিংটন শুধু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নয়, বরং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্কে সমর্থন এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করতে চায়।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুবিও বলেন, ইরানের শাসকগোষ্ঠী দেশটির জনগণের প্রকৃত প্রতিফলন নয়। খুব কম দেশেই নেতৃত্ব ও জনগণের মধ্যে এত বড় ব্যবধান দেখা যায়।
১৯৮০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। জুন মাসে ওমানের মাস্কাটেই দুই দেশের কর্মকর্তারা পারমাণবিক চুক্তি পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে বৈঠকে বসেছিলেন। তবে ইসরায়েলের ইরানের ওপর হামলা শুরু হলে সেই আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়। পরে যুক্তরাষ্ট্র স্বল্প সময়ের জন্য যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে এবং ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে এবং দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।








