দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা চরমে থাকা অবস্থায় আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। উত্তেজনা কমাতে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই আলোচনাটিকে দেখা হচ্ছে।
বিবিসি জানিয়েছে, আজ (৬ ফেব্রুয়ারি) শুক্রবার ওমানের রাজধানী মাস্কাটে শুক্রবার (স্থানীয় সময়) দেশ দুটির উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে এই বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। গত জুনে ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার পর এটিই দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম সরাসরি বৈঠক। ইরান দাবি করেছে, ওই হামলার পর তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ এবং এতে হাজারো মানুষের নিহত হওয়ার অভিযোগের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক আরও অবনতি ঘটে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, ওই বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৫০ হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন। বৈঠকের স্থান ও আলোচনার পরিধি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত মাস্কাটেই বৈঠকে সম্মত হয় দুই পক্ষ। এর আগে মিশর, তুরস্ক ও কাতারের উদ্যোগে ইস্তাম্বুলে আলোচনার পরিকল্পনা থাকলেও ইরানের অনুরোধে স্থান পরিবর্তন করা হয়।
আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি ইতিমধ্যে মাস্কাটে পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি পার্সিয়ান। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। আলোচনার মূল ইস্যু হিসেবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সামনে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র চাইছে এর পরিধি আরও বিস্তৃত করতে। ওয়াশিংটনের দাবি, আলোচনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন এবং মানবাধিকার পরিস্থিতিও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। তবে তেহরান স্পষ্ট করেছে, আলোচনা কেবল পারমাণবিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
ইরান দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টা বলে অভিযোগ করে আসছে। তেহরান জানিয়েছে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার থেকে সরে আসবে না এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তৃতীয় কোনো দেশে হস্তান্তরের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে একটি আঞ্চলিক কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালানোর বিষয়ে ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে দেশটি।








