মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান ও সাবমেরিন থেকে চালানো সমন্বিত হামলায় ইরানের প্রধান তিনটি পরমাণু স্থাপনা-ফোরদো, নাতানজ ও ইসফাহান-আংশিকভাবে ধ্বংস হয়েছে। এই ঘটনার পর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠকে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং ইসরায়েলের মধ্যে।
আজ ২৩ জুন সোমবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, জরুরি বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যনির্বাহী রাষ্ট্রদূত ডরোথি কামিল শি বলেন, ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ ক্ষমতা ভেঙে দেওয়া এবং বিশ্বের সর্ববৃহৎ সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের পরমাণু হুমকি দূর করাই আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল। এই হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আত্মরক্ষার অধিকার অনুযায়ী চালানো হয়েছে এবং এটি বৈশ্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় ছিল।
ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে ‘খোলাখুলি অপরাধ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এই হামলার পর ইরানি সশস্ত্র বাহিনী সময়, পদ্ধতি ও মাত্রা নির্ধারণ করে উপযুক্ত জবাব দেবে। আন্তর্জাতিকভাবে ঘোষিত যুদ্ধাপরাধী নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে আরেকটি অযৌক্তিক যুদ্ধে জড়িয়েছে।
ইরাভানি আরও বলেন, ইরান ৫ হাজার বছরের সভ্যতার ধারক এবং জাতিসংঘের চার্টার ও পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির অন্যতম দায়িত্বশীল পক্ষ। অথচ যুক্তরাষ্ট্র, যা একমাত্র দেশ হিসেবে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে, আজ আবারও অবৈধ শক্তি প্রয়োগ করেছে।
ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন জাতিসংঘে বলেন, ইতিহাস বদলে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ বিশ্বকে ভয়াবহ পরমাণু বিপর্যয় থেকে বাঁচিয়েছে। ইরান কূটনীতিকে ছলনা হিসেবে ব্যবহার করে সময়ক্ষেপণ করছিল এবং গোপনে সমৃদ্ধকরণ চালাচ্ছিল।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস হামলাকে ‘ভয়ানক মোড়’ আখ্যা দিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য নতুন করে আরেকটি ধ্বংসযজ্ঞের চক্র সহ্য করতে পারবে না। অবিলম্বে লড়াই বন্ধ করে অর্থবহ আলোচনায় ফিরতে হবে।








