যুক্তরাষ্ট্র দু’দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। তিনি বলেছেন: আমি সুশাসন ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশকে সহায়তা দেয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছি।
মঙ্গলবার ৩০ মে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এডওয়ার্ড এম কেনেডি সেন্টার ফর পাবলিক সার্ভিস অ্যান্ড দ্য আর্টস সেন্টারে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫০ বছরেরও বেশি সময়ের দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও দু’দেশের মানুষের মেলবন্ধনের স্মারক হিসেবে ‘বন্ধুত্বের বীজ; যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের ৫০ বছর’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেন, এই আলোকচিত্র প্রদর্শনীটি যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যেকার দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক এবং দু’দেশের মানুষের মেলবন্ধনের স্মারক, যা সময়ের সাথে সাথে আরও শক্তিশালী হয়েছে। তিনি বলেন, এই প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে যেতে আপনি দেখতে পাবেন এগুলো শুধু অতীতের কিছু ঘটনার ছবি নয়। বরং এগুলো আমাদের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক ও দু’দেশের মানুষের মধ্যকার মেলবন্ধনের সাক্ষ্য, যা সময়ের সাথে সাথে আরও শক্তিশালী হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের এই প্রদর্শনীর ভেতরে এগিয়ে যেতে যেতে আপনি দেখতে পাবেন বাংলাদেশী ও আমেরিকানদের মধ্যেকার নিত্যদিনের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার আদি শেকড় সম্বলিত বিভিন্ন ছবি। ছবিগুলোতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতারও আগে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত শিল্পী, বিদ্যার্থী, স্থপতি, ডাক্তার ও উদ্যোক্তাসহ প্রথম দিকের অভিবাসীদের দেখা যাবে।
অন্যদিকে আমাদের কাছে রয়েছে এমন সব ছবি যেখানে চিত্রিত হয়েছে কীভাবে অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে আমাদের দু’টি দেশ ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও প্রবাসী সম্প্রদায়, সহায়তা ও অবকাঠামো এবং কূটনৈতিক সহযোগিতায় সম্পৃক্ত রয়েছে।
কোভিড-১৯ মহামারীর কথা উল্লেখ করে পিটার হাস বলেন, কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলায় ইউএসএআইডি ৫০ হাজারেরও বেশি স্বাস্থ্যসেবা কর্মীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং বাংলাদেশের জনগণকে এই মহামারী থেকে সুরক্ষা দিতে এ সংক্রান্ত সহায়তা হিসেবে প্রায় ১৫ কোটি ডলার প্রদান করেছে। মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে কোভিড-১৯ এর সাড়ে ১১ কোটিরও বেশি টিকা বিনামূল্যে অনুদান দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে বাংলাদেশের পাওয়া করোনাভাইরাসের টিকা অনুদানের ৭০ শতাংশেরও বেশি।
এসময় তিনি এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শনী আয়োজনে অমূল্য সহায়তার জন্য মেরিডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারকে ধন্যবাদ জানান।
যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকীর বর্ধিত উদযাপনের অংশ হিসেবে ৫০টি ঐতিহাসিক আলোকচিত্র নিয়ে আয়োজিত এই প্রদর্শনীটি ছয়টি স্বতন্ত্র বিভাগে বিভক্ত। ‘স্বাধীনতাপূর্ব যোগাযোগ’ বিভাগে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতারও আগে বাংলাদেশি ও আমেরিকানদের তথা শুরুর দিকের অভিবাসী, শিল্পী, পণ্ডিত, স্থপতি, ডাক্তার ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার আদি বীজ নিহিত আছে।

‘দাপ্তরিক সফর’ বিভাগে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের দ্বিপাক্ষিক সফর ও বৈঠকের ছবি দেখানো হয়েছে। ‘সহায়তা ও অবকাঠামো’ বিভাগে বিগত কয়েক দশকে বাংলাদেশের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার বিষয়গুলো স্থান পেয়েছে। ‘ব্যবসা-বাণিজ্য’ বিভাগে গতিময় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্কের বিষয়গুলো উঠে এসেছে। ‘শিক্ষা ও বিজ্ঞান’ বিভাগটিতে দেখা যায় বাংলাদেশি ও আমেরিকান বিজ্ঞানী ও পণ্ডিত ব্যক্তিগণ গত কয়েক দশক ধরে বহু ধরনের গবেষণা প্রকল্পে কীভাবে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করেছেন।
পরিশেষে, ‘সংস্কৃতি ও প্রবাসী সম্প্রদায়’ বিভাগটিতে উভয় দেশ অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তির মাধ্যমে কীভাবে সম্পৃক্ত হয়েছে সে বিষয়গুলো উঠে এসেছে। ইএমকে সেন্টারে প্রদর্শনীটি চলবে ১৪ জুন ২০২৩ পর্যন্ত। ভার্চুয়াল প্রদর্শনীটি https://culture.meridian.org/50yearsusbd– লিঙ্কে দেখা যাবে।








