ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইরানের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, দাবি করেছেন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এবং দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা। হামলার পর ইসরায়েল দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণের আশংকায়।
সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
হামলাটি এমন সময় করা হয়েছে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও দেশটির অভ্যন্তরীণ দমন নীতির কারণে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। ইরানে সরকারের দমন নীতিতে হাজার হাজার প্রতিবাদী নিহত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সর্বশেষ ইরানের মাটিতে হামলা চালিয়েছিল ২০২৫ সালের জুন মাসে, যখন ট্রাম্প তিনটি পারমাণবিক স্থাপনার ওপর বিমান হামলা চালানোর নির্দেশ দেন। এই হামলার মাধ্যমে তিনি প্রায় অর্ধ শতাব্দীর বিরোধের পর ইরানের ওপর আক্রমণের অনুমোদন দেওয়া প্রথম মার্কিন রাষ্ট্রপতি।
ইরানের ইসফাহান, কুম, করাজ, কেরমানশাহ এবং রাজধানী তেহরানে হামলার খবর এসেছে। হামলার ভিডিওতে রাজধানীতে ধোঁয়ার স্তূপ দেখা যাচ্ছে।
ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে চালানো হয়েছে, জানিয়েছেন ইসরায়েলি সূত্র। তবে এই মুহূর্তে স্পষ্ট নয় যে এটি একতরফা ইসরায়েলি হামলা নাকি যুক্তরাষ্ট্রও এতে অংশ নিয়েছে।
ইসরায়েলি হামলার লক্ষ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, যেগুলো ইসরায়েল গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখে।
ইসরায়েলের হোম ফ্রন্ট কমান্ড দেশজুড়ে সাধারণ নাগরিকদের শুধুমাত্র জরুরি কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দিয়েছে। নতুন বিধিনিষেধে জনসমাবেশ, কাজ এবং স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি মধ্যপ্রাচ্যে স্থানান্তর করেছে, যুদ্ধের সম্ভাবনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি নৌবহর ইরানের দিকে যাচ্ছে যদি প্রয়োজন হয়, এবং ইরানকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। একই দিনে তিনি বলেছিলেন, ইরান আলোচনা করতে চায় এবং যুক্তরাষ্ট্রও তা করতে প্রস্তুত।
ট্রাম্পের মতে হামলার উদ্দেশ্য হলো ইরানি সরকারের দমন নীতিতে নিহত প্রতিবাদীদের রোধ করা। এই আন্দোলন গত ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি অনুযায়ী, অন্তত ৫ হাজার ৫২০ প্রতিবাদী নিহত হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ১১৭ দাবি করেছে, যাতে নাগরিক, নিরাপত্তা বাহিনী এবং সন্ত্রাসী অন্তর্ভুক্ত।
নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপের পর আন্দোলন স্তিমিত হয়েছে, যা ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী দমন হিসেবে বিবেচিত।


