গাজা সংকট ঘিরে ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক উদ্বেগের প্রতিফলন ঘটেছে অস্ট্রেলিয়ায়। গত রোববার (৩ আগস্ট) পুলিশের অনুমান অনুযায়ী প্রায় ৯০ হাজার মানুষ (আয়োজকদের দাবি প্রায় ৩ লাখ) সিডনি হারবার ব্রিজ অতিক্রম করে এক বিরল বিক্ষোভে অংশ নেন। ঠান্ডা বাতাস ও ভারি বৃষ্টির মধ্যেও অংশগ্রহণকারীরা হাতে ছাতা, প্ল্যাকার্ড ও ফিলিস্তিনি পতাকা নিয়ে পদযাত্রা করেন।
সংবাদমাধ্যম সিএনএন ৮ আগস্ট এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
আয়োজক প্যালেস্টিনিয়ান অ্যাকশন গ্রুপের জোশ লিস জানান, গ্লাস্টনবারি উৎসবে শিল্পীদের সংহতি প্রকাশ ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রো-প্যালেস্টাইন অবস্থানের রাজনীতিবিদদের সাফল্য তাদের অনুপ্রাণিত করেছে। অস্ট্রেলিয়ায়ও চার্চ গ্রুপ, শ্রমিক সংগঠন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এমপি এই আন্দোলনে যুক্ত হচ্ছেন।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং বলেছেন, গাজার মানবিক বিপর্যয়, নারী-শিশুর মৃত্যু এবং সাহায্য আটকে দেয়ার ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ানদের ক্ষোভই এই বিপুল সমাবেশের পেছনে মূল কারণ। এই বিক্ষোভ শান্তি ও যুদ্ধবিরতির প্রতি সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।
জাতিসংঘে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র স্বীকৃতি নিয়ে চাপ
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের লেবার সরকার আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার মতো ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে চাপের মুখে আছে। ওং সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনই ব্যবস্থা না নিলে ফিলিস্তিন বলেই কিছু অবশিষ্ট থাকবে না।
আন্দোলনের দাবি ও অস্ত্র ব্যবসা বিতর্ক
প্যালেস্টিনিয়ান অ্যাকশন গ্রুপের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা, অস্ত্র বাণিজ্য বন্ধ, গাজায় অবাধ সহায়তা প্রবেশ, অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার। সরকার দাবি করেছে, সাম্প্রতিক গাজা যুদ্ধে তারা ইসরায়েলকে কোনো অস্ত্র দেয়নি; তবে অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানিগুলো এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ সরবরাহ চেইনে যুক্ত।
বিক্ষোভ ঠেকানোর ব্যর্থ চেষ্টা
এনএসডব্লিউ পুলিশ আদালতে আবেদন করে জননিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বিক্ষোভ বন্ধ করতে চেয়েছিল, তবে বিচারক তা নাকচ করেন। আয়োজকরা জানান, এটি কেবল অস্ট্রেলিয়ায় নয়, বিশ্বজুড়ে মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে।
সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া
বিক্ষোভে কেউ কেউ হামাস-সমর্থন বা বিতর্কিত চিত্র ব্যবহার করেছে বলে সমালোচনা ওঠে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন একে চরম বামপন্থী ও মৌলবাদী ইসলামের বিকৃত জোট বলে আখ্যা দেন। অন্যদিকে, অনেকের কাছে এটি মানবিক সংহতির এক অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ।
বিক্ষোভের পর সরকার গাজায় অতিরিক্ত ২ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার (১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) সহায়তা ঘোষণা করে।
ফিলিস্তিনে অ্যাকশন গ্রুপ আগামী ২৪ আগস্ট অস্ট্রেলিয়ায় আরও বড় আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। জোশ লিসের বলেছেন, এই বিক্ষোভ প্রমাণ করেছে যে, ধারা বদলাচ্ছে। মানুষের চোখ খুলছে, প্রোপাগান্ডার বাইরে এসে গণহত্যা বন্ধে বিশ্বজুড়ে রাস্তায় নামছে।








