ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদকের শিক্ষকদের ওপর হামলা ও হেনস্তার নিন্দা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে এবি জুবায়েরসহ শিক্ষক হেনস্থায় জড়িত সকলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ তিন দফা দাবি পেশ করেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।
আজ শনিবার এক বিবৃতিতে এই দাবি জানান বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠনটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১১ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন ও উদ্ভিদ বিজ্ঞানের অধ্যাপক আজমল হোসেনের ওপর ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়েরের নেতৃত্বে কিছু শিক্ষার্থীর হামলার ঘটনা ঘটে। পরে এক ফেসবুক পোস্টে জুবায়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক শিক্ষার্থীর এমন গর্হিত আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, উল্লিখিত দুই শিক্ষকই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষক। এর মধ্যে অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন দীর্ঘদিন ধরে নানা বিতর্ক ও সহিংস আচরণের জন্য আলোচিত। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের মাধ্যমে ছাত্র ও শিক্ষক মহলে গুণ্ডামি, সহকর্মীকে হুমকি, আন্দোলন দমন, শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ তার বিরুদ্ধে রয়েছে। জুলাই আন্দোলনেও তার ভূমিকা ছিল দমনমূলক বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। এসব অভিযোগ তদন্তাধীন থাকলেও ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে অভিযোগের বিচার ও ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর, শিক্ষার্থী বা তাদের প্রতিনিধিদের নয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অভ্যুত্থানের দেড় বছর পরও শিক্ষকদের ওপর দলবদ্ধ হামলা, ধাওয়া ও লাঞ্ছনা সম্পূর্ণ বেআইনি ও নিন্দনীয়। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডাকসুর একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি এটি আরও গুরুতর, কারণ নির্বাচিত পদ ব্যবহার করে আইন নিজের হাতে নেওয়া কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার জন্ম দেয়। এবি জুবায়েরের আচরণ ছাত্রলীগের অতীত গুণ্ডামির স্মৃতি জাগায়। প্রশাসনের নীরবতা তাকে আরও বেপরোয়া করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজের জন্য অসম্মানজনক। ভিন্নমতের কারণে কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষকের ওপর হামলা গ্রহণযোগ্য নয়। ক্যাম্পাসে এ ধরনের গুণ্ডামি বন্ধে প্রশাসনের অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এসময় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক ৩টি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো:
১. অধ্যাপক জামাল উদ্দিনসহ যেসকল শিক্ষকের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের নিপীড়নের হুমকি, আদেশ-নির্দেশ দেবার বা প্রকাশ্যে সমর্থন দেবার অভিযোগ আছে, তাদের সকলের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত করে দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
২. কালক্ষেপণ না করে, চব্বিশের ৫ আগস্টের পর থেকে ক্যাম্পাসে সংঘঠিত সকল নিপীড়নের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার করতে হবে।
৩. এবি জুবায়েরসহ শিক্ষক হেনস্থায় জড়িত সকলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।








