এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পাশ্ববর্তী এলাকায় ছাত্রীনিবাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইবি’র একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে প্রথমে মেস কর্তৃপক্ষ ও পরে স্থানীয় কয়েকজন যুবক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে স্থানীয়রা উপস্থিত শিক্ষার্থীদের প্রতি চড়াও হয় কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির মতো ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে হতাহতের ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৭ জন।
সোমবার (১৩ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু পকেট গেইট সংলগ্ন এলাকায় রাত সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনা অস্বাভাবিক রূপ ধারণ করলে রামচন্দ্রপুর পুলিশ ফাঁড়ির দুজন পুলিশের উপস্থিতিতে পরিবেশ স্বাভাবিক হয়।
ভুক্তভোগী, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই ছাত্রীনিবাসের এক শিক্ষার্থীর বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ছিল। পরে বিদ্যুৎ বিল নিতে ম্যানেজার ছাত্রীর অনুমতি না নিয়েই তার কক্ষে প্রবেশ করেন। এতে ওই মেয়ে রাগান্বিত হয়ে ম্যানেজারকে রুম থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। পরে মেসের ম্যানেজারকে বিল দিতে গেলে বিলের হিসেবে গরমিল নিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি হয়। এ সময় সেই ছাত্রী তার সহপাঠীদেরকে বিষয়টি জানায়। সহপাঠীরা মেসে যেয়ে অনুমতি না নিয়ে রুমে ঢোকা, বিভিন্ন বাজে ইঙ্গিত দেওয়া, হাত ধরার চেষ্টা করার ব্যাপারে ম্যানেজারকে জিজ্ঞাসা করেন। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে ওই শিক্ষার্থীর বন্ধুদের ওপর চড়াও হন। মারামারির একপর্যায়ে ক্যাম্পাসের সাংবাদিকসহ কয়েক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এক যুবক আহত হন।
আহতরা হলো: বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগের আবু হানিফ পিয়াস, সমাজ কল্যাণ বিভাগের সাকিব আহমেদ, ইংরেজি বিভাগের হৃদয় আবির এবং আইসিটি বিভাগের নাঈম রেজা। সকলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এছাড়াও স্থানীয় দুজন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাংবাদিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এসময় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফারিয়া খাতুন বলেন, মেস ম্যানেজার বিদ্যুৎ বিলের নাম করে শিউলী খালাকে আমার রুমে পাঠাতো। বিদ্যুৎ বিল হয়েছিল ৪১৫ টাকা। আমি বিদ্যুৎ বিল দিতে গেলে মেস ম্যানেজার (বিবেগ বিশ্বাস) আমার সাথে কেমন টাইপ কথা বলার চেষ্টা করেন। এছাড়া থাপ্পড় দিয়ে মেস থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেন। ম্যানেজার আমাকে হুমকি দেয়ায় ভীত হয়ে বন্ধুদের ডেকেছি। প্রথমে তারা ম্যানেজারের সাথে ভাল ব্যবহার করে। আমার বন্ধুদের সামনেও ম্যানেজার আমাকে থাপ্পড় মারার কথা বলে। এতে বন্ধুদের সাথে ম্যানেজারের তর্কাতর্কি হয়। পরে খালু (ইসলাম জোয়াদ্দার) এসে তাদের বের করে দেয়।
নূর জাহান ছাত্রীনিবাসের ম্যানেজার বিবেগ বিশ্বাস বলেন, আমার ব্যাপারে সকল অভিযোগ মিথ্যা। আমি সেই মেয়েকে থাপ্পড় দিবো এমন কিছু বলিনি। বিদ্যুৎ বিল চাইলে সে আমার সাথে খারাপ ব্যাবহার করে তার বন্ধুদের ডাকে। তার বন্ধুরা আমার ওপর চড়াও হয়। পরবর্তীতে তারা মেসের একজনকে মারধর করে।
মেসের কর্মরত শিউলী বলেন, এই মেয়ে দেরী করে রুমে আসে। অনেক সময় রাত ১২টায় মেসে আসে। সে আমাদের সাথেও অনেক খারাপ ব্যাবহার করে। এছাড়া ইসলাম ভাইকে তার বন্ধুরা মেরেছে।
মেসের কেয়ারটেকার ইসলাম জোয়ার্দ্দার বলেন, ওই মেয়ের বন্ধু আগেও একবার এসে হম্বিতম্বি করে গেছে। আমি তাকে অফিসে বসে ঠাণ্ডাভাবে কথা বলতে বললে ওই ছেলে বলে তুমি মুরুব্বী, মুরুব্বীর মতো থাকো নাইলে মাইর খাবানে। পরে আমি তাকে জোর করে মেস থেকে বের করে দেই।
ফারিয়ার বন্ধু আহত আবু হানিফ পিয়াস বলেন, আমাদের বান্ধবীর সাথে বেশ ক’দিন ধরেই মেস ম্যানেজার বাজে ব্যবহার করে আসছিল। বিভিন্ন সময় মেস ম্যানেজার তার রুমে প্রবেশ করার চেষ্টা করে এবং তাকে বাজে ইঙ্গিত প্রদান করে। ফলে এ বিষয়ে আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে মিটমাট করতে গেলে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে এলাকাবাসী বিষয়টি জানতে পারলে তারা আমাদের ওপর আক্রমণ করে। তারপর আমরা আহত অবস্থায় কোনোরকমে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করি। এসময় আমিসহ আমার আরও ৩ বন্ধু আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা নেই।
এ বিষয়ে স্থানীয় মাতব্বর খ্যাত রেজাউল করিম খান বলেন, শিক্ষার্থীদের সাথে এলাকায় মাঝে মধ্যে সমস্যা হয়। সেই মেয়ের সমস্যা হলে মেস মালিককে বিষয়টি জানানো উচিত ছিল। কিন্তু সে এটা না করে তার বন্ধুদের ডেকে এনেছে। শিক্ষার্থীদের কারণে অনেক সময় এলাকার পরিবেশ নষ্ট হয়। তার বন্ধুরা এখানে মাস্তানি দেখাতে এসেছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে আমরা তাদের বিরুদ্ধে মামলা করব।
এ বিষয়ে রামচন্দ্রপুর পুলিশ ফাঁড়ির এস আই তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে বিষয়টি মিটমাট করেছি। এখানে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। আমরা সবাইকে শান্ত থাকতে বলেছি। যদি কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়ে আমি লোকাল থানায় ইনফর্ম করে পুলিশ পাঠিয়েছি। পরবর্তীতে পুলিশ স্থানীয়দের সাথে কথা বলে বিষয়টি আপাতত মিটমাট করেছে। তবে এখানে আমাদের ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনা আমি শুনেছি। সার্বিক বিষয়ে আমরা মেস মালিক এবং প্রশাসনের সবাইকে নিয়ে মিটিংয়ে বসবো।








