এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
সুদানের উত্তর দারফুর প্রদেশের রাজধানী এল-ফাশারে আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) দখলের পর ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের অভিযোগ উঠেছে। জাতিসংঘ কর্মকর্তারা একে ‘ভয়াবহ ও নৃশংস’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং পরিস্থিতিকে ‘আরও অন্ধকার নরকে পরিণত’ বলে বর্ণনা করেছেন।
আজ ৩১ অক্টোবর শুক্রবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে আল জাজিরা জানিয়েছে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে আফ্রিকার সহকারী মহাসচিব মার্থা আমা আকইয়া পবি জানান, শহরটিতে গণহত্যা, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও বাড়ি বাড়ি তল্লাশির ঘটনা ঘটছে। বাস্তবে এল-ফাশারে কেউই নিরাপদ নয় এবং সাধারণ নাগরিকদের বেরিয়ে যাওয়ার কোনো নিরাপদ পথ নেই।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচারও বলেছেন, শহরটি আগে থেকেই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে ছিল, এখন তা আরও গভীর নরকে নেমে গেছে। তিনি জানান, আরএসএফ যোদ্ধাদের শহরে প্রবেশের পর ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। নারীদের ধর্ষণ, অঙ্গহানি ও নির্বিচারে হত্যা অব্যাহত রয়েছে।
গত রবিবার সেনাবাহিনীর শেষ ঘাঁটি থেকে পিছু হটার পর শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেয় আরএসএফ। গত দেড় বছর ধরে আরএসএফের অবরোধে আটকা ছিল শহরটি। সেনা প্রত্যাহারের পর কয়েক লাখ মানুষ খাদ্য ও চিকিৎসা সংকটে পড়েছেন। শনিবার থেকে অন্তত ৩৬ হাজার মানুষ ৭০ কিলোমিটার দূরের তাওইলা শহরে পালিয়ে গেছেন, যেখানে আগেই প্রায় ছয় লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন।
এল-ফাশারের পতন সুদানের আরেকটি বিভাজনের ইঙ্গিত দিতে পারে। ২০২৩ সালের এপ্রিলে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত কয়েক দশক মানুষ নিহত ও ১ কোটি ২০ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এল-ফাশার থেকে পালিয়ে আসা ফাতিমা আবদুর রহমান বলেন, প্রচণ্ড গোলাবর্ষণে তার এক মেয়ে নিহত হয়েছে, আরেক মেয়ের চোখে আঘাত লেগেছে এবং ছেলেটি পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়েছে।
জাতিসংঘ আগেও সদস্য দেশগুলোকে সুদানের সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলোকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিল। নিরাপত্তা পরিষদ আরএসএফের দুই জেনারেলকেও সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে নিষিদ্ধ করেছিল। মানবিক সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে, তাওইলা শহরে আশ্রয় নেওয়া নতুন বাস্তুচ্যুতদের কারণে খাদ্য ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। স্থানীয় সহায়তাকর্মীরা বলছেন, পরিস্থিতি এখন এক কথায় ‘বিপর্যয়কর’।
সুদানের জাতিসংঘ দূত আল-হারিস ইদ্রিস মোহাম্মদ বলেন, এল-ফাশারে যা ঘটছে, তা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া জাতিগত নিধনযজ্ঞেরই ধারাবাহিকতা। তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে আহ্বান জানান, আরএসএফের কর্মকাণ্ডকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে ঘোষণা করতে এবং তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র সরবরাহ নিষিদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে।







