বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর)।
শুক্রবার ১৮ জুলাই বিকেলে এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ও ওএইচসিএইচআরের মধ্যে তিন বছরের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ১৭ জুলাই প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের ৩৩তম বৈঠকে এই মিশন স্থাপনের বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়।
উপদেষ্টা পরিষদের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে ‘জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়’-এর বাংলাদেশ মিশন স্থাপনে সমঝোতা স্মারকের খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও নীতিগত সহায়তার ক্ষেত্র আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ
চুক্তির আওতায় জাতিসংঘের মিশনটি সরকারি সংস্থা এবং সিভিল সোসাইটি সংগঠনগুলোর জন্য প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেবে। পাশাপাশি দেশের আইনি কাঠামো মজবুতকরণ, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার অঙ্গীকার পূরণে সহায়তা করবে।
সরকার জানিয়েছে, এই উদ্যোগ ২০২৪ সালে জুলাই–আগস্ট মাসে সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশে জবাবদিহিতা ও সংস্কারের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে মিশন
সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, “বাংলাদেশ একটি ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধের উপর দাঁড়ানো সমাজ। আমরা নাগরিকদের কাছ থেকে বারবার শুনেছি আন্তর্জাতিক কোনো সহযোগিতা যেন সেই মূল্যবোধের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে।”
এই প্রসঙ্গে সরকার আরও জানায়, ওএইচসিএইচআর-এর মিশন কোনো সামাজিক এজেন্ডা প্রচার করবে না যা দেশের প্রচলিত আইন, সামাজিক বা সাংস্কৃতিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বরং এটি অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় নিরূপণ এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেবে।
স্বচ্ছতা ও অংশীদারিত্বের প্রতিশ্রুতি
ওএইচসিএইচআর নিশ্চিত করেছে যে তারা বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বাস্তবতাকে পূর্ণ সম্মান জানিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং স্থানীয় স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।
সরকারও জানিয়ে দিয়েছে, দেশের স্বার্থের পরিপন্থী মনে হলে এই সমঝোতা থেকে যে কোনো সময় সরে আসার সার্বভৌম অধিকার সংরক্ষিত থাকবে।
‘ন্যায়ের ভিত্তিতে মানবাধিকার রক্ষা চাই’
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, “যদি পূর্ববর্তী শাসনামলে এই ধরনের একটি মিশন থাকত, যখন বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম এবং গণহত্যার মতো অপরাধ ঘটেছিল, তবে সেগুলোর তদন্ত, নথিভুক্তি ও বিচার সম্ভব হতো। তাই আজকের মানবাধিকার প্রতিশ্রুতি আদর্শ নয় এটি হতে হবে ন্যায়ের ভিত্তিতে।”
প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে একটি সুযোগ
এই অংশীদারিত্বকে সরকার একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছে। সরকারের ভাষ্য, “এই চুক্তি আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে এবং জনগণের অধিকার সুরক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করবে যা আমাদের আইন, মূল্যবোধ এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিতার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।”







