জাতিসংঘ গুরুতর আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে বলে সতর্ক করেছেন সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। সদস্য দেশগুলোর বকেয়া চাঁদা পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে বিশ্ব সংস্থাটি ‘আসন্ন আর্থিক ধসের’ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই জাতিসংঘের তহবিল পুরোপুরি ফুরিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
বিবিসি জানিয়েছে, শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্রদূতদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে গুতেরেস বলেন, ১৯৩টি সদস্য দেশের প্রত্যেকেরই নির্ধারিত চাঁদা পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক। তা না হলে আর্থিক নিয়মকাঠামোয় মৌলিক সংস্কার আনতে হবে। অন্যথায় এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব হবে না বলে তিনি সতর্ক করেন। বর্তমান পরিস্থিতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
চিঠিতে জাতিসংঘ মহাসচিব লেখেন, যে অর্থ আদায়ই হয়নি, তা দিয়ে বাজেট বাস্তবায়ন করা যায় না। আবার যে অর্থ কখনো পাওয়া যায়নি সেটি ফেরত দেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অতীতেও জাতিসংঘ আর্থিক সংকটে পড়েছে, তবে এবারের পরিস্থিতি ব্যতিক্রম। কারণ, অনুমোদিত নিয়মিত বাজেটের বড় অংশের অর্থ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা সংকটকে আরও গভীর করেছে। জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী নির্ধারিত চাঁদা পরিশোধ করা সদস্য দেশগুলোর আইনি দায়িত্ব।
মহাসচিব বলেন, পুরো ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা এই অর্থপ্রদানের ওপর নির্ভরশীল। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বকেয়া অর্থ রেকর্ড পরিমাণে পৌঁছেছে, যা মোট প্রাপ্যের ৭৭ শতাংশ। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব না হলে অব্যবহৃত অর্থ সদস্য দেশগুলোকে ফেরত দিতে হয়। কিন্তু বাস্তবে যে অর্থ কখনো পাওয়া যায়নি, সেটিই ফেরত দিতে বলা হলে পুরো ব্যবস্থাটি একটি ‘দুধারি তলোয়ারে’ পরিণত হয়। হয় সব সদস্য রাষ্ট্র সময়মতো ও পূর্ণাঙ্গ চাঁদা পরিশোধ করবে, নয়তো আসন্ন আর্থিক ধস ঠেকাতে জাতিসংঘের আর্থিক কাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে।
যদিও চিঠিতে কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এলো, যখন জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় দাতা দেশ যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিত বাজেট ও শান্তিরক্ষা তহবিলে অর্থ দেওয়া থেকে সরে এসেছে। একই সঙ্গে দেশটি জাতিসংঘের একাধিক সংস্থা থেকেও প্রত্যাহার করেছে, যেগুলোকে মার্কিন প্রশাসন করদাতাদের অর্থের অপচয় বলে মনে করছে।







