হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে টোল আরোপের কোনো অধিকার ইরানের নেই এমন মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের শিপিং তদারকি সংস্থা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ। তিনি বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের তা প্রত্যাখ্যান করা উচিত।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোমিঙ্গেজ বলেন, দেশগুলো আন্তর্জাতিক প্রণালিতে কোনো ধরনের ফি বা টোল আরোপ করতে পারে না। এটি আন্তর্জাতিক আইনের বিরুদ্ধে। তিনি আরও সতর্ক করেন, এ ধরনের টোল গ্রহণ বা ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এতে বৈশ্বিক নৌপরিবহনে ক্ষতিকর দৃষ্টান্ত তৈরি হবে।
এর আগে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর টোল আরোপের অধিকার দাবি করে, এমনকি যুদ্ধ শেষে এই ব্যবস্থা চালুর কথাও জানায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টোল আদায়ের জন্য ওয়াশিংটন ও তেহরানের যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।
এদিকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠক রবিবার কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, পারমাণবিক অস্ত্র না বানানোর শর্তসহ ওয়াশিংটনের প্রস্তাব তেহরান মেনে নেয়নি। অপরদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত দাবি’ই চুক্তি না হওয়ার কারণ।
দুই দেশের মধ্যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে আছে, ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ১৩৫টি জাহাজ চলাচল করলেও যুদ্ধবিরতির পর তা নেমে এসেছে মাত্র ২২টিতে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা প্রণালিতে দুটি যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে সম্ভাব্য মাইন অপসারণের চেষ্টা করেছে। তবে ইরান এ দাবি অস্বীকার করেছে।
ডোমিঙ্গেজ বলেন, সমস্যার মূল সমাধান হলো যুদ্ধের অবসান। সংঘাত শুরুর আগে এ প্রণালিতে কোনো সমস্যা ছিল না উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, উত্তেজনা কমলে ধাপে ধাপে আবার স্বাভাবিক নৌ চলাচল শুরু হবে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ইরান ও ওমানের মধ্যে ১৯৬৮ সালের নৌপথ বিভাজন চুক্তিই যথেষ্ট, নতুন কোনো কাঠামোর প্রয়োজন নেই।
এছাড়া প্রণালিতে অচলাবস্থার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে পড়া প্রায় ২০ হাজার নাবিকের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইএমও প্রধান। তিনি বলেন, এটি যত দীর্ঘ হবে, তাদের জন্য তত বেশি ক্ষতিকর হবে। পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সতর্ক করেন তিনি।







