বিদায়ের দিনক্ষণ আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন টনি ক্রুস। তখনও হয়তো ভাবেননি তার ক্লাব ক্যারিয়ারের শেষটা হবে বর্ণিল। স্বপ্নের মতই ইতি টানলেন জার্মান কিংবদন্তি, বিদায়ী ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদকে ইউরোপসেরার মুকুট জিতিয়ে। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডকে হারিয়ে রেকর্ড ১৫তম শিরোপা জিতেছে স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটি। ক্রুসের বিদায়টা রঙিন হলেও ডর্টমুন্ডের জার্সিতে আক্ষেপ ঘোচানো হলো না ম্যাট হ্যামেলস ও মার্কো রয়েলসের।
ওয়েম্বলিতে ইয়েলো ওয়ালদের ২-০ গোলে হারিয়েছে মাদ্রিদ। ৭৩ মিনিটে দানি কারভাহালের লিড এনে দেয়ার পর ৮৪ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। লিড ধরে রেখেই জার্মান ক্লাবটিকে হতাশায় ডুবায় কার্লো আনচেলত্তির দল।
মাদ্রিদের প্রথম গোলটি এসেছিল ক্রুসের অ্যাসিস্ট থেকেই। ৭৩ মিনিটে বল নিয়ে ডর্টমুন্ড জাল অভিমুখে বল পাঠান ভালভার্দে। তাকে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল। কর্নার পায় রিয়াল। আর তাতেই অপেক্ষার অবসান হয় লস ব্লাঙ্কোসদের। ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে রিয়াল সমর্থকরা মাতেন গোল উল্লাসে। টনি ক্রুসের কর্নার কিক গোলপোস্টের ছয় গজ দূর থেকে হেডারে জালে পাঠান কারভাহাল।
ম্যাচ জুড়ে ডর্টমুন্ডকে চাপে রাখার অন্যতম একজন ছিলেন ৩৪ বর্ষী ক্রুস। দাপট দেখিয়েই মাঠ মাতিয়েছেন। ৮৬তম মিনিটে মাঠ থেকে বিদায় নেন টনি ক্রুস। সেই সঙ্গে রিয়ালের জার্সিতে ক্লাব ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি খেলে ফেলেন জার্মান তারকা।
৩৪ বর্ষী ক্রুস ২০১৪ সালে যোগ দিয়ে রিয়াল মাদ্রিদে ২৩টি শিরোপা জিতেছেন। রিয়ালের হয়ে পাঁচটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে আরও একটি এবং চারটি লা লিগা শিরোপা রয়েছে তার। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ছয়টি শিরোপা জেতাকে ‘অপূর্ব’ বলছেন জার্মান কিংবদন্তি। ক্লাব ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি খেলার পর বলেছেন, ‘অপূর্ব, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ছয়টি শিরোপা। এমন কিছু অর্জন করতে পারব বলে কখনও ভাবিনি।’

অন্যদিকে এই ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ২০১৩ সালে বিষাদের সাগরে ডুবেছিল ডর্টমুন্ডের দুই তারকা মার্কো রয়েস ও ম্যাট হামেলস। সে বছর ইউরোপ সেরার মুকুট জয়ের কাছাকাছি পৌঁছেও ব্যর্থ হয়েছিল ডর্টমুন্ড। স্বদেশি ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল ২০১২-১৩ মৌসুমের ফাইনালে। রয়েস ও হামেলস ছিলেন সেই দলে। এবার আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগ থাকলেও তা আর হয়ে ওঠেনি দুজনের। আক্ষেপ নিয়েই ইয়েলো ওয়ালদের জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন রয়েস।
২০১২ সাল থেকে ডর্টমুন্ডের জার্সিতে খেলছেন রয়েস। টানা ১২ মৌসুম ক্লাবটির হয়ে মাতিয়েছেন। ওয়েম্বলিতেই তারকা স্ট্রাইকারকে বিদায় জানিয়েছে ডর্টমুন্ড। ক্লাব ছাড়ার কথা আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন ৩৪ বর্ষী রয়েস। জার্মান স্ট্রাইকার বরুশিয়ার হয়ে ৪২৯ ম্যাচে গোলে করেছেন ১৭০টি। তবে ক্লাবটির হয়ে কোনো শিরোপা জেতা হয়নি তার।
রয়েসের মত হয়তো ডর্টমুন্ডের জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলেছেন ম্যাট হামেলস। দুই মেয়াদে ক্লাবটির হয়ে ১৪ মৌসুম খেলেছেন এই ডিফেন্ডার। হলুদ জার্সিতে দু’বার বুন্দেসলিগা শিরোপা তুলে ধরলেও আগে কখনও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা হয়নি। ওয়েম্বলিতেও সেই আক্ষেপ পুরোয়নি জার্মান ডিফেন্ডারের।
চলতি জুনেই বরুশিয়ার হয়ে চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে তার। অবশ্য ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করবেন নাকি অন্য কোথাও পাড়ি জমাবেন তা নিয়ে এখনও নিশ্চুপ জার্মান ডিফেন্ডার। দলের ফাইনাল নিশ্চিতের পর জানিয়েছেন শিরোপার লড়াইয়ের পরে যেকোনো সময়ে জানাবেন সিদ্ধান্ত।







