এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্লে-অফের ম্যাচে বেনফিকার জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ান্নির বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ তুলেছেন রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়াস জুনিয়র। উত্তপ্ত ইস্যুতে খেলা ১১ মিনিট বন্ধ ছিল। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ঘটনার তদন্তে একজন নীতি ও শৃঙ্খলা পরিদর্শক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ইউরোপের যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক খেলা থেকে অন্তত ১০ ম্যাচ নিষিদ্ধ হতে পারেন প্রেস্টিয়ান্নি।
ঘটনায় অবশ্য ক্লাবকে পাশে পেয়েছেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড প্রেস্টিয়ান্নি। বেনফিকা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছে, ‘আমরা একসঙ্গে তোমার পাশে আছি।’
আর ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে পাশে পেয়েছেন ভিনিসিয়াস। ইনফান্তিনো বলেছেন, ‘আমি হতবাক এবং দুঃখিত। সকল সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের পদক্ষেপ নিতে হবে এবং দায়ীদের জবাবদিহি করাতে হবে।’
এরআগে ২০ বর্ষী প্রেস্টিয়ান্নি বলেছেন, প্রতিপক্ষ তাকে ভুল বুঝেছে। ভিনিসিয়াস অভিযোগ করেন, বেনফিকার একজন তার প্রতি বর্ণবাদী মন্তব্য করেছেন। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে রেফারিকে জানান এবং ক্ষোভে মাঠ ছেড়ে ডাগআউটে চলে যান। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, প্রায় ১১ মিনিট খেলা বন্ধ রাখতে হয়।
বিষয়টির ব্যাখ্যা করে প্রেসটিয়ান্নি বলেছেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, কখনও রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে বর্ণবাদী মন্তব্য করিনি, দুঃখের ব্যাপার তিনি আমার থেকে যা শুনেছেন বলে মনে করেছেন তা ভুল বুঝেছেন।’
‘আমি কারও সাথেই বর্ণবাদী আচরণ করিনি এবং রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে পাওয়া হুমকির জন্য আমি দুঃখিত।’
উয়েফার নিয়ম অনুযায়ী, পরিস্থিতি সামাল দিতে ম্যাচ রেফারি ফ্রানকইস লেতেজিয়ার ফিফার অ্যান্টি-রেসিজম প্রোটোকল চালু করেন। এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল, ম্যাচ আর চালানো সম্ভব হবে না। পরে অবশ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে খেলা আবার শুরু হয়।
ঘটনার জেরে বেনফিকার কোচিং স্টাফের একজন সদস্যকে লাল কার্ড দেখানো হয়। পরে আলাদা এক ঘটনার জেরে দলের ম্যানেজার হোসে মরিনহোকেও লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়। এসব ঘটনা ছাড়াও বিরতির পর যখন ভিনিসিয়াস বল স্পর্শ করেন, তখনই গ্যালারি থেকে শিস ও বিদ্রূপের শব্দ ভেসে আসতে শোনা গেছে।








