ভারতের নবনির্মিত সংসদ ভবনে ‘অখণ্ড ভারত’ মানচিত্র স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে চরমভাবে অপমান করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।
আজ গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে উদীচীর সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে’র পক্ষ থেকে এই কথা জানানো হয়। অবিলম্বে ভারতের নবনির্মিত সংসদ ভবনে স্থাপিত ‘অখণ্ড ভারত’ মানচিত্র অপসারণের দাবি জানান তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিতর্কিত এই মানচিত্রে বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, আফগানিস্তানসহ প্রতিবেশী বেশ কয়েকটি দেশকে ভারতের মানচিত্রের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। যা এই উপমহাদেশের ইতিহাসের ধারাবাহিক অর্জনের প্রতি চরম অবজ্ঞা ও অবহেলা।
ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন, ধর্মীয় দ্বিজাতীতত্তের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশ আজ পৃথিবীর বুকে স্বঔজ্জ্বল্যে দেদীপ্যমাণ। এমন স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশকে ভারত রাষ্ট্রের অখণ্ড অংশ হিসেবে মানচিত্রে দেখানোর ঔদ্ধত্য আন্তর্জাতিক অপরাধের সামিল। বর্তমান ভারত সরকার তাদের সংসদ ভবনে এমন মানচিত্র স্থাপন করে চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। উদীচী এর তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ এবং এমন অপকর্মের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করছে।
জানা যায়, প্রাচীনকালে যেসকল এলাকা নিয়ে ভারতবর্ষ গঠিত ছিল সেগুলোকে আবার একীভূত করার এক অলীক স্বপ্নে বিভোর বর্তমান ভারত সরকারের চালিকা গুরু আরএসএস ও বিজেপি। আধুনিক যুগে, যেখানে সকল প্রতিবেশী রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেয় ভারত, সেখানে ওইসব রাষ্ট্রকে নিজের দেশের অঙ্গীভূত করার উদ্ভট চিন্তা পশ্চাতপদ, সামন্ততান্ত্রিক এবং সাম্রাজ্যবাদী ধ্যানধারণার প্রতিফলন বলে মনে করে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।
বিবৃতিতে উদীচী নেতৃবৃন্দ বলেন, নানা বৈচিত্র্যের মধ্যে ‘ধর্মনিরপেক্ষ ঐক্য’ নামের এক মহান আদর্শের ওপর ভিত্তি করে দীর্ঘদিন ধরে ভারত রাষ্ট্রের অবস্থান। কিন্তু গত কয়েক বছরে সাম্প্রদায়িক ধ্যানধারণাপুষ্ট উগ্রগোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হয়ে ভারতের রাষ্ট্রীয় চরিত্রের পরিবর্তন ঘটানোর অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার দেশটিকে একটি নির্দিষ্ট ধর্মের তথা ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার ন্যাক্কারজনক চেষ্টা চলছে। মনে করা যায়, এই হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই ‘ অখণ্ড ভারত’ শিরোনামের আপত্তিকর এবং বিভ্রান্তিমূলক মানচিত্রের এই ম্যুরাল স্থাপন। এই মানচিত্রের কারণে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে ভারতের সম্পর্কেও যেমন অবনতি ঘটবে তেমনি সাম্প্রদায়িক সহিংসতাও আসকারা পেতে পারে, যা এই অঞ্চলের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য খুবই উদ্বেগজনক।








