সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ১৯৫ রানের বড় জয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মাহফুজুর রহমান রাব্বির বাংলাদেশ।
২০২০ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হাত ধরে বিশ্বকাপ শিরোপা এসেছিল বাংলাদেশে। টাইগার ক্রিকেটের ইতিহাস আরও সমৃদ্ধ হল যুবাদের হাত ধরেই। কাব্যের ছন্দে মেতে যুবারা ঘরে আনছে আরেকটি শিরোপা। এবার এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন লাল-সবুজের বাংলাদেশ। সেটিও আসরে অপরাজিত থেকে। এই প্রথম যুব এশিয়া কাপে শিরোপা ছুঁয়ে দেখল বাংলাদেশ।
২০১৯ সালে প্রথম এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। ভারতের কাছে হেরে স্বপ্ন ভেঙেছিল। এবার শুরু থেকেই দাপট দেখিয়েছে টাইগার বাহিনী। গ্রুপপর্বে সংযুক্ত আরব আমিরাত, শ্রীলঙ্কা ও জাপানকে হারিয়ে সেমিতে পা রাখে কোচ ওয়াসিম জাফরের শিষ্যরা, সেমিতে কোচের জন্মভূমি ভারতকে ৬১ রানে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কাটে। অন্যদিকে পাকিস্তানকে ১১ রানে হারিয়ে ফাইনালে এসেছিল আরব আমিরাত।
দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান সংযুক্ত আরব আমিরাত অধিনায়ক আইয়ান আফজাল খান। ওপেনার শিবলীর ১২৯ রানের অনবদ্য ইনিংসে ২৮২ রানের সংগ্রহ আনে বাংলাদেশ। জবাবে ২৪.৫ ওভারে ৮৭ রানে গুটিয়ে যায় আমিরাত।
টাইগারদের বড় পুঁজি তাড়ার লক্ষ্যে নেমে দেখেশুনে শুরু করেন আরব আমিরাতের দুই ওপেনার। পঞ্চম ওভারে প্রথম সাফল্য এনে দেন মারুফ মৃধা। ১৭ বলে ৯ রান করে ফিরে যান আরিয়ানশ শর্মা। সপ্তম ওভারে দ্বিতীয় আঘাত হানেন মারুফ। ২৮ রানে ফেরান আকশাত রায়কে। ২২ বলে ১১ রান করে যান এ ওপেনার।
অষ্টম ওভারের পঞ্চম বলে তৃতীয় উইকেট তুলে নেন রোহনাত দৌলা বর্ষণ। বোল্ড করেন ৭ বলে ৬ রান করা তানিশ সুরিকে। দশম ওভারের তৃতীয় বলে নিজের দ্বিতীয় শিকারের দেখা পান বর্ষণ। ইথান ডি’সুজাকে ফেরান শেখ পারভেজ জীবনের ক্যাচ বানিয়ে। ৪ বলে ৪ রান করেন ডি’সুজা।
১২তম ওভারের শেষ বলে নিজের তৃতীয় শিকার তুলে নেন বর্ষণ। উইকেটরক্ষক আশিকুর রহমান শিবলীর ক্যাচ বানিয়ে ফেরান আইয়ান আফজাল খানকে। ১২ বলে ৫ রান করেন আমিরাত অধিনায়ক।
১৫তম ওভারে জোড়া আঘাত হানেন ইকবাল হোসেন ইমন। ওভারের তৃতীয় বলে বোল্ড করে ফেরান ৯ বলে ৬ রান করা ইয়ায়িন রায়কে। পরের বলে রানের খাতা খোলার আগেই আম্মার বাদামিকে ফেরান জিসান আলমের ক্যাচ বানিয়ে।
১৯তম ওভারের শেষ বলে অষ্টম আঘাত হানেন শেখ পারভেজ জীবন। হার্দিক পাইকে ফেরান বোল্ড করে। ২০ বলে ৪ রান করেন হার্দিক। পরের ওভারে নিজের তৃতীয় শিকারের দেখা পান মারুফ মৃধা। আয়মান আহমেদকে ফেরান জীবনের ক্যাচ বানিয়ে।
২৫তম ওভারে কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন জীবন। অমিদ রেহমানকে ফেরান জীবনের ক্যাচ বানিয়ে। ৮৭ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকদের ইনিংস। ধ্রুব পারাশার অপরাজিত ছিলেন ৪০ বলে ২৫ রানে।
টাইগারদের হয়ে মারুফ মৃধা ও রোহনাম দৌলা বর্ষণ ৩টি করে উইকেট নেন। ইকবাল হোসেন ইমন ও পারভেজ জীবন নেন দুটি করে উইকেট।
এর আগে ব্যাটে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ১৪ রানে ওপেনিং জুটি ভাঙেন আমিরাতের অমিদ। ১৫ বলে ৭ রান করে আউট হন জিসান। তিনে নেমে শিবলীর সঙ্গে ১২৫ রানের বড় জুটি গড়েন চৌধুরী রিজওয়ান। জুটিতে বড় সংগ্রহের ভিত পেয়ে যায় টিম টাইগার্স। জুটি ভেঙে ৪টি চার ও এক ছক্কায় ৭১ বলে ৬০ রান করে আউট হন রিজওয়ান।
চারে নেমে ৬ চারে ৪০ বলে ৫০ রানের দারুণ ইনিংস খেলে ফেরেন আরিফুল ইসলাম। আইমান আহমেদের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে সাজঘরের পথ ধরেন।
মাঝে ১২৯ বলে আসরে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পেয়ে যান শিবলী। যা অনূর্ধ্ব-১৯ দলে বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। আগে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে ২০১৫ সালে ১৫০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন পিনাক ঘোষ। যা যুবাদের ক্রিকেটে এখনও টাইগারদের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ সংগ্রহ।
এবারের এশিয়া কাপে সেমিফাইনাল বাদ দিলে প্রায় সব ম্যাচেই রান পেয়েছেন শিবলী। গ্রুপপর্বে আরব আমিরাতের বিপক্ষে খেলেছেন ৭১ রানের ইনিংস। জাপানের বিপক্ষে ৫৫ রানের ইনিংস খেলার পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১১৬ রানের দারুণ ইনিংস খেলেছিলেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার।
এদিন আহরার আমিন ও মোহাম্মদ শিহাব জেমসের ব্যাটে তেমন কোনো রান না এলেও অধিনায়ক মাহফুজুর রহমান রাব্বির থেকে আসে ১১ বলে ২১ রান। শেষ ওভারে এসে ১৪৯ বলে ১২৯ রান করে আউট হন শিবলী। ১২টি চার ও একটি ছয়ের মারে ইনিংস সাজিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ২৮২ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।







