ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের দুই দশক পূর্ণ হয়েছে। ২০০৩ সালের ২০ মার্চ ইরাকের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র আছে অভিযোগে বাগদাদে হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা ও তাদের নেতৃত্বাধীন জোট ন্যাটো। বুশ প্রশাসন ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র খুজে না পেলেও যুদ্ধের কারণে ধ্বংস হয়ে যায় মধ্যপ্রাচ্যের একটি সমৃদ্ধ দেশ।
ইরাকে সাদ্দাম হোসেনের শাসন বিরোধী জনগণের একটি বড় অংশ সেসময় মার্কিনীদের স্বাগত জানালেও তাদের বুঝতে খুব বেশি দেরি হয়নি যে, মার্কিনীদের হামলা ইরাক এবং এর জনগণের জন্য কী বিপর্যয় বয়ে এনেছে।
যুদ্ধে কয়েক হাজার মার্কিন সেনা ও লাখ লাখ ইরাকি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়। একটি দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে নিমজ্জিত হয় ইরাক যার রেশ এখনো চলমান। এখনো বোমা হামলা, বন্দুকযুদ্ধ নিয়মিত ঘটনা ইরাকে। একটি সমৃদ্ধ দেশ ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। ধ্বংস হয়েছে প্রশাসনিক ব্যবস্থা।
যুদ্ধে ৪৪ লাখ ইরাকি অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয় এবং ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ শিশু মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। ইরাক থেকে ২০ লাখ শরণার্থী পাশের দেশগুলোতে আশ্রয় নেয়।
প্রাথমিকভাবে আমেরিকানরা এই যুদ্ধের পক্ষে থাকলেও ২০ বছর পর এখন অধিকাংশ আমেরিকানরা এমনকি সেই যুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া অনেক মার্কিন নেতাও সেই যুদ্ধের সিদ্ধান্তকে ভুল ছিল বলে মনে করেন। যুদ্ধ যে কখনো সুন্দর কিছু নিয়ে আসেনা ইরাকে মার্কিন আগ্রাসন পৃথিবীতে তার আরেকটি উদাহরণ হয়ে থাকল।








