গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইন মোড়ে নিয়মিত চেকপোস্ট চলাকালে ঘুষের ১০ লাখ টাকাসহ শরীয়তপুর সড়ক বিভাগের পিয়ন মোশারফ হোসেন (৬০), গাড়ী চালক মনির হোসেনকে (৪০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. আনিসুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পিয়ন মোশারফ হোসেন মাদারীপুর জেলার সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর খসরু গ্রামের মৃত কালু মোল্লার ছেলে ও ড্রাইভার মনির হোসেন শরীয়তপুর জেলার পালং থানার দক্ষিণ মধ্যপাড়া এলাকার মৃত সোহরাব ব্যাপারীর ছেলে।
এদিকে, গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের মিডিয়া গ্রুপে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গোপালগঞ্জ শহরের পুলিশ লাইন্স মোড়ে নিয়মিত চেকপোস্ট চলাকালে বুধবার বিকেল ৪টার দিকে একটি প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো গ- ০৭-৬৮৪১) থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। প্রাইভেটকারের ভেতরে থাকা একটি ব্যাগের মধ্যে ও ২টি খামে মোট ১০ লাখ টাকা পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে প্রাইভেটকারের আরোহী মোশারফ হোসেন অসংলগ্ন কথাবার্তা বলায় পুলিশের সন্দেহ হয়।
এক পর্যায়ে তিনি জানান, এ টাকা গোপালগঞ্জ সড়ক বিভাগের সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদ হোসেনকে (সরকারি কর্মকর্তা) দেওয়ার জন্য শরিয়তপুর থেকে নিয়ে আসছেন।
চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের এতে সন্দেহ হলে উল্লেখিত প্রাইভেটকার ও টাকা জব্দ করেন তারা।
এ সময় পিয়ন ও ড্রাইভারকে আটক করে গোপালগঞ্জ সদর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ ব্যাপারে পুলিশ বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সড়ক বিভাগের দায়িত্বশীল একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, শরীয়তপুর সড়ক বিভাগের একটি কাজের দরপত্রের অনুমোদনের জন্য ওই টাকা গোপালগঞ্জ সড়ক সার্কেলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে দেওয়ার জন্য আনা হয়েছিল। এখন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাদেকুল ইসলাম ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জিকরুল ইসলাম কৌশলে এ ঘটনার দায় নিরপরাধ সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদ হোসেনের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন। এতে সড়ক বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গোপালগঞ্জ সড়ক সার্কেলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে শরীয়তপুর সড়ক বিভাগের একটি কাজের দরপত্রের অনুমোদনের জন্য ঘুষ হিসেবে পিয়ন এ টাকা এনেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে গোপালগঞ্জ সড়ক সার্কেলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাদেকুল ইসলামকে বেশ কয়েকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
বৃহস্পতিবার ১৮ ডিসেম্বর ৩টার পর আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।








