কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত তুরস্কের জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সমবেদনা জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন তুরস্ককে সব ধরনের সহায়তা দেয়ার প্রস্তাব করেছেন।
তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের সাহায্যের প্রয়োজন হলে আমরা নির্মাণ শ্রমিকদের পাঠাতে পারি। আর আপনাদের কী প্রয়োজন তা আমাদের জানালে আমরা আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করব।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার তুর্কি সমপক্ষ মেভলুত কাভুসোগ্লুর সঙ্গে ফোনালাপের সময় একথা বলেন।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশের মতো ভ্রাতৃপ্রতিম বন্ধুদেশ রয়েছে। আমাদের কোন কিছুর প্রয়োজন হলে আমরা বিনা দ্বিধায় আপনাদেরকে জানাব।’
গত ৬ ফেব্রুয়ারি সিরিয়ার সীমান্তের কাছে তুরস্কে ৭.৮-মাত্রার প্রবল ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে এ পর্যন্ত ৪১ হাজারের বেশি লোকের প্রাণহানি ঘটেছে।
এই দুর্ঘটনাকে বাংলাদেশীদের জন্য একটি বড় ধাক্কা বলে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আমরা সত্যিই ধ্বংস ও প্রাণহানির ব্যাপকতায় মর্মাহত। আমরা আমাদের আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি এবং আপনারাও আমাদেরকে আপনাদের ভাই হিসাবে গ্রহণ করবেন যাতে আমরা যতটা সম্ভব সাহায্য করতে পারি।’
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগ্লু ফোন করার জন্য মোমেনকে ধন্যবাদ জানান এবং রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সংসদের স্পিকার এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আন্তরিক শোক ও সংহতি বার্তার জন্য বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণকে ধন্যবাদ জানান।
বাংলাদেশ তুরস্কে ৬০ জনের একটি অনুসন্ধান, উদ্ধার ও চিকিৎসা দল এবং তাঁবু পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে কাভুসোগ্লু বলেন, এই মুহূর্তে এগুলোই আসলে তাদের জরুরি প্রয়োজন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ আগে পাঠানো দুই হাজার তাঁবুর অতিরিক্ত আরও ১০ হাজার তাঁবু পাঠাচ্ছে।
সেখানের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগ্লুু বলেন, টেলিভিশনে আপনারা যা দেখেছেন তা সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি।
তিনি আরো বলেন, ‘কিছু প্রদেশ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে ৭.৭ ও ৭.৬ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প, হাজার হাজার আফটারশক হয়েছে, এর মধ্যে কয়েকটি ছিল ৬.৫ মাত্রার বেশি।’
ধ্বংসস্তূপের নিচে কিছু লোক রয়ে গেছে যাদের কাছে এখনও কোনো উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারেনি উল্লেখ করে কাভুসোগ্লুু বলেন, ‘আমরা জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে, অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করছি এবং ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের পুনর্নিমাণের পরিকল্পনা করছি।’
মেভলুত কাভুসোগ্লুু আহত বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য দুঃখ প্রকাশ এবং তাদের দ্রুত সুস্থ্যতা কামনা করেছেন।








