যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা দপ্তরের প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির সাবেক নেত্রী তুলসী গ্যাবার্ড। দেশটির পার্লামেন্ট কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট গতকাল বুধবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি পদে তাকে নিয়োগ দেয়।
দ্যা গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সিনেটে ভোটাভুটির মাধ্যমে তুলসী গ্যাবার্ডকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। সিনেটের মোট ১০০ জন সদস্যের মধ্যে ৫২ জন তার পক্ষে ভোট দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে জাতীয় গোয়েন্দা দপ্তরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিআইএ এবং এফবিআইসহ যুক্তরাষ্ট্রের মোট ১৮টি সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা জাতীয় গোয়েন্দা দপ্তরের অধীনস্ত। এই সংস্থাগুলোর কর্মী সংখ্যা ৭০ হাজারেরও বেশি এবং তারা সবাই জাতীয় গোয়েন্দা দপ্তরের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য। তুলসী গ্যাবার্ড এখন থেকে এই ১৮টি গোয়েন্দা সংস্থার দেখভালের দায়িত্ব পেয়েছেন।
তুলসী গ্যাবার্ডের ডেমোক্রেটিক পার্টির সাথে জড়িত থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে তার নিয়োগ অনেকের জন্য বিস্ময়কর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তুলসী গ্যাবার্ডের প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং ট্রাম্পকে সমর্থন করার কারণে তাকে এই পদ দেওয়া হয়েছে। এটি তার রাজনৈতিক সমর্থনের একটি ‘পুরস্কার’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত নভেম্বর মাসে নির্বাচিত হওয়ার পর জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক হিসেবে গ্যাবার্ডের নাম ঘোষণা করেন ট্রাম্প। তার এই ঘোষণা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই এই বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে এই মনোনয়নের ফলে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে রাজনৈতিকীরণ ঘটতে পারে। তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিপক্ষকে সমর্থন এবং যে দায়িত্ব তিনি পেতে যাচ্ছেন, সেখানে অভিজ্ঞতা না থাকার বিষয়েই মূলত আলোচনার সৃষ্টি হয়।
তুলসী গ্যাবার্ডের জন্ম ১৯৮১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য আমেরিকান সামোয়ার বৃহত্তম শহর তুতুলিয়ায়। তার বাবা মাইক গ্যাবার্ড যুক্তরাষ্ট্রের একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ এবং ডেমোক্রেটিক পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা। ২০০৬ সালে প্রথমবারের মতো ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট সদস্য নির্বাচিত হন তুলসী। এরপর থেকে প্রতিটি সিনেট নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করেন।
তবে ২০২২ সালে তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে সরে দাঁড়ান এবং ২০২৪ সালে রিপাবলিকান পার্টিতে যোগ দেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হন তিনি। পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিলেও কিছুদিন পর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন জানান।
হাইস্কুল পাশের পর হাওয়াইয়ের লিওয়ার্ড কমিউনিটি কলেজে ভর্তি হন তিনি। তবে পড়াশোনা শেষ না করেই ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত প্রতিরক্ষা সংস্থা হাওয়াই আর্মি ন্যাশনাল গার্ডে যোগ দেন। ২০০৪ সালে মার্কিন সেনাবাহিনীর মেডিকেল শাখার সদস্য হিসেবে ইরাকে যুদ্ধে অংশ নেন। ইরাক থেকে ফিরে ২০০৯ সালে হাওয়াই প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
তুলসী গ্যাবার্ড মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রশান্ত মহাসাগরীয় ইউনিটে দীর্ঘ সময় কর্মরত ছিলেন। সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণের চেয়ে তিনি সামরিক বাহিনীর মেডিকেল ইউনিট, পুলিশ ও অন্যান্য দাপ্তরিক শাখায় বেশি সময় কাটিয়েছেন। সামরিক বাহিনীতে তার সর্বশেষ পদবী ছিল লেফটেন্যান্ট কর্নেল।







