বাংলাদেশের একটি আদালত দুর্নীতির মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নী, যুক্তরাজ্যের সাবেক মন্ত্রী ও লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে ৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। রায় ঘোষণার পর লেবার পার্টি একে ‘অন্যায্য’ এবং ‘ত্রুটিপূর্ণ বিচারপ্রক্রিয়ার ফল’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, লেবার পার্টির বিবৃতিতে বলা হয়, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া একটি মৌলিক অধিকার। সেই নীতি অনুসরণ না করায় আমরা এই রায়কে স্বীকৃতি দিতে পারি না।
সোমবার রায়ের প্রতিক্রিয়ায় লেবার পার্টির এক মুখপাত্র বলেন, টিউলিপ সিদ্দিককে এই মামলায় ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগের বিস্তারিত সম্পর্কেও তাকে কখনো অবহিত করা হয়নি। টিউলিপের আইনজীবীরা একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ কোনো সাড়া দেয়নি।
এই বিষয়ে টিউলিপ সিদ্দিক বলেন, এই বিচারপ্রক্রিয়া শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ ও প্রহসনমূলক। দেড় বছর ধরে আমার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠলেও বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আমার সঙ্গে কখনো যোগাযোগ করা হয়নি।
৪ বছরের এই সাজা এর আগে দেওয়া দুই বছরের কারাদণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হলো। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকার উপকণ্ঠে একটি জমি বরাদ্দে ‘বিশেষ ক্ষমতা’ ব্যবহার করতে খালাকে প্রভাবিত করার অভিযোগে টিউলিপ সিদ্দিককে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। পৃথক দুর্নীতি মামলায় শেখ হাসিনাসহ তার পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যকে ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এসব মামলার বিচার অনুপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় এবং সব আসামিই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
দুপুরে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪–এর বিচারক মো. রবিউল আলম এই রায় ঘোষণা করেন। একই মামলায় অপর আসামিদেরও অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায় অনুযায়ী, ঢাকার পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে চার বছর, শেখ রেহানার সন্তান রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীকে পৃথকভাবে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আদালত প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও আরোপ করেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রত্যেককে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। মামলার অন্য আসামিদের পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।








